অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক কারণে টালমাটাল শ্রীলঙ্কায় আগামী ২০ জুলাই হবে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে।
গত রবিবার রাতে প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জননিরাপত্তা রক্ষা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকানো এবং সরকারি জরুরি সেবা ও সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আদেশ যথাযথ।’
ধারণা করা হচ্ছে, সংকট সামাল দিতে এবং অস্থির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট এ পদেক্ষেপ নিয়েছেন।
গভীর হতে থাকা অর্থনৈতিক সংকট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমাগত ঘাটতির জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে সাধারণ শ্রীলঙ্কানরা রাস্তায় নেমে আসে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে কয়েক দফায় জরুরি অবস্থা জারি করে আসছে দেশটির সরকার। সর্বশেষ গত সপ্তাহে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালানোর পর জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। তবে এবারই প্রথম দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলো।
দেশটির সরকার সর্বশেষ এ জরুরি অবস্থার সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান এখনো ঘোষণা করেনি। তবে আগের জারি করা জরুরি অবস্থাগুলোর মধ্যে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে লোকজনকে গ্রেপ্তার করার, ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে তল্লাশি চালানোর এবং জনবিক্ষোভ দমনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কার রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এখন আর দেশটিতে জরুরি অবস্থা তেমন কাজে আসছে না। দেশটির থিঙ্কট্যাঙ্ক সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি অলটারনেটিভসের গবেষক ভবানি ফনসেকা রয়টার্সকে বলেন, ‘জরুরি অবস্থা জারি একটি ত্রুটিপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ ক’দিন আগেও দেখা গেছে শৃঙ্খলা রক্ষায় এই পদেক্ষেপ তেমন কার্যকর নয়।’
তবে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সোমবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবারের বিজ্ঞপ্তি জারির পর সোমবার সকাল থেকে রাজধানী কলম্বো বেশ শান্ত রয়েছে। যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকটে গত মে মাসে আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে। ঘনিয়ে আসে রাজনৈতিক সংকট। আন্দোলন-বিক্ষোভ তীব্রতর হলে গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে যান মাহিন্দার ছোটভাই ও শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। তার দেশত্যাগের পর থেকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
