নুহাশ পল্লীতেই হবে হ‌ুমায়ূন স্মৃতি জাদুঘর: শাওন

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২২, ০৮:২৩ পিএম

বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে নুহাশ পল্লীতে স্থানীয় দুটি মাদ্রাসার কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ছাড়াও দুপুরে এতিম ছাত্রদের খাদ্য বিতরণ করা হয়। 

সোমবার রাত ২টার দিকে মেহের আফরোজ শাওন তার দুই সন্তান নিষাত ও নিনিতকে নিয়ে নুহাশ পল্লী আসেন। পরে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় হ‌ুমায়ূন তারা লেখকের ভক্ত, হিমু পরিবহনের সদস্যদের নিয়ে হ‌ুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং ফাতেহা পাঠ করে মোনাজাতে শরিক হন।

হ‌ুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন নিয়ে শাওন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা নির্মাণ আমাদের পক্ষে সম্ভব। এটা হবে, এটা নুহাশ পল্লীতেই হবে। হ‌ুমায়ূন আহমেদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র সেগুলো খুব সুন্দরভাবে সংগৃহীত আছে। তার হাতে আঁকা ছবিগুলো অনেক দিন ধরে নিউইয়র্কের এক ব্যক্তির কাছে আটকে ছিল। অতি সম্প্রতি ছবিগুলো আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। আমরা সব ছবি হাতে পেয়েছি। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের সন্তানদের কাছে, আমার কাছে যা কিছু ছবি আছে এগুলো হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি জাদুঘরে থাকবে’।

তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের হাতের লেখা স্ক্রিপ্টগুলো যেগুলো বিভিন্ন প্রকাশকদের কাছে ছিল সেগুলো তারা জাদুঘরে দান করবেন বলে আশা করছি। আমরা আশা শিগগিরই হ‌ুমায়ূন আহমেদের জাদুঘর নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারব’।

ক্যানসার হাসপাতাল নিয়ে শাওন বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের যে স্বপ্ন ছিল সেটা পূরণ করার জন্য যে শক্তি, যে সামর্থ্য দরকার হয় সেটা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। তা ছাড়া যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন তাও আমার নেই। সমষ্টিগতভাবে আমরা সবাই যদি চেষ্টা করি হয়তো হবে। সে ধৈর্যটা আমার আছে, সে ধৈর্য ধরে আমি ১০ বছর অতিক্রম করেছি। সে স্বপ্নটা আমি দেখেছি, দেখছি। এটা কম সময় না। যাদের সঙ্গে নিয়ে সে স্বপ্নটা পূরণ করা দরকার, আমি চাইলে একটা ছোটখাটো হাসপাতাল করতে পারি। সেটা ৮/১০টা হাসপাতাল বাংলাদেশে যে রকম আছে সেটা সে রকম হবে না, সেই জোর আমার নেই। আমার কাছে মনে হয়েছে অনেক বড় স্বপ্নের আগেও অনেকগুলো ছোট ছোট স্বপ্ন থাকে’। শাওন বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের নিজ গ্রামে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠটি হুমায়ূন আহমেদের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীর মাসেই ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়েছে। সে স্কুলের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানের মধ্যে মেধার স্বাক্ষর রাখছে। আমি বিভিন্নজনকে বলবার চেষ্টা করছি বা সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশের সরকার তথা নীতিনির্ধারকদের প্রতি হুমায়ূন আহমেদ যে ধরনের ক্যানসার হাসপাতাল স্থাপনের স্বপ্ন দেখছিলেন তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি’। 

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহসভাপতি ও অন্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের পরিবার থেকে ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি তাদের পাশে থাকবে’।

তিনি দাবি করেন নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি ধরে রাখতে সরকারি, বেসরকারি অথবা পারিবারিক উদ্যোগে একটি স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা জরুরি প্রয়োজন। এ উদ্যোগটির সঙ্গেও বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি পাশে থাকবে।

২০ প্রকাশক তিনটি প্রকাশক সমিতির পক্ষ থেকে হ‌ুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় মিলেনিয়াম পাবলিকেশনস এর স্বত্বাধিকারী এস এম লুৎফর রহমান, ধ্রুব পদ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আবুল বাশার ফিরোজ শেখ, মাতৃভাষা প্রকাশের স্বত্বাধিকারী নেছার উদ্দিন আইয়ুব, অনিক পাবলিকেশনসের স্বত্বাধিকারী মাহতাব উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত