জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আট দিন ধরে চলছে এ অব্যবস্থাপনা।
গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের ভোকেশনাল এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায় ময়মনসিংহগামী মানুষের ভিড়। সেখানে ময়মনসিংহগামী কয়েকজনকে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে অটোরিকশার চালকদের মধ্যে দরকষাকষি করতেও দেখা যায়। অনেককে দেখা যায় বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় অটোরিকশা থেকে নেমে সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
কয়েকজন যাত্রী জানান, এখন যাত্রী বেশি, যানবাহনের সংখ্যা কম। এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন অটোরিকশার চালকরা। জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ যেতে আগে দিতে হতো যাত্রীপ্রতি ১৬০ টাকা। কিন্তু ঈদ আর গাড়ির সংকট দেখিয়ে এখন আদায় করা হচ্ছে দুইশ টাকা করে। কখনো কখনো এ ভাড়া গিয়ে দাঁড়ায় ৩ থেকে ৪শ টাকায়। কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। যানজট না থাকলে অটোরিকশায় ময়মনসিংহ যেতে ১ ঘণ্টা আর যানজট থাকলে এরচেযে বেশি সময় লাগে। প্রতিদিন জামালপুর থেকে ময়মনসিংহে প্রায় ২৫০টি অটোরিকশা চলাচল করে। ঈদ ছাড়া প্রত্যেক যাত্রীর ভাড়া ১৬০ টাকা।
জামালপুর শহরের বসাকপাড়া এলাকার রাজীব সাহা বলেন, ট্রেনে প্রচ- ভিড়। জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ যেতে ট্রেনের টিকিটও পাওয়া যায় না। যারা বাড়তি টাকায় টিকিট কাটছেন, তাদের অনেকেই ভিড় ঠেলে ট্রেনে উঠতে পারছেন না।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক কামাল বলেন, ‘ঈদের মধ্যে আমাদেরও লোকসান হয়। জামালপুর থেকে যাত্রী পাওয়া গেলেও ময়মনসিংহ থেকে খালি আসতে হয়। এখন একটি ট্রিপ নিয়ে গেলে সারা দিনের কাম শেষ। তাই ভাড়া একটু বেশিই নিতে হচ্ছে। তারপরও মালিকের জমা, রোড খরচসহ বিভিন্ন খরচ দিয়ে কোনো টাকাই থাকে না।
জামালপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক ফকির সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, এ ব্যাপারে এখনো কোনো যাত্রী তাদের কাছে অভিযোগ করেননি। তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
