সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক হয়রানি বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯ দফা নির্দেশনা

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২২, ১২:০২ এএম

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এজেন্ট হিসেবে সঞ্চয়পত্র বিক্রির কাজ করে ব্যাংক। এক্ষেত্রে ব্যাংকের কারণে সঞ্চয়পত্র কেনাবেচা বা মুনাফা ও আসল তুলতে গ্রাহকরা বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রয় এবং বিক্রয়-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়, যিনি সঞ্চয়পত্র কিনতে চান, তার আবেদন ইস্যু অফিস কর্র্তৃক গ্রহণের পর ওই তারিখ থেকে পরবর্তী এক কর্মদিবসের মধ্যেই ক্রেতার দাখিল করা চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য উপস্থাপন করতে হবে।

এছাড়া গ্রাহক কর্র্তৃক ডেবিট অথরিটির মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য আবেদন করা হলে গ্রাহকের হিসাব ডেবিট করার তারিখে এই গ্রাহকের অনুকূলে সংশ্লিষ্ট ইনস্ট্রুমেন্ট (সঞ্চয়পত্র) ইস্যু করতে হবে।

জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে বিক্রীত সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মেয়াদপূর্তিতে আসল বা মূল অর্থ প্রদেয় হওয়ার তারিখেই ইন্টিমেশন প্রদান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে সার্কুলারে। গ্রাহকের সঞ্চয়পত্র ক্রয়-পরবর্তী যেকোনো আবেদন (যেমন নমিনি পরিবর্তন, হিসাব নম্বর পরিবর্তন, মোবাইল নম্বর পরিবর্তন, ইএফটি সংক্রান্ত সমস্যা প্রভৃতি) গ্রহণের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতাধীন জেলা বা ব্যুরো সঞ্চয় অফিস ও জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত লিংক ব্যাংক, অফিস অথবা ব্যুরোর গ্রাহকদের চেক যথাসময়ে ক্লিয়ারিং করে সংশ্লিষ্ট অফিসকে অবহিত করবে।

এছাড়া সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য গ্রাহক যে চেক জমা দেবে তা ক্লিয়ারিংয়ের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে যথোপযুক্ত কারণ ছাড়া ফেরত দেওয়া যাবে না। গ্রাহকের অনুকূলে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ইনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও আসল বা মূল অর্থ পাঠায় তা গ্রাহকের হিসাবে জমা করতে বলা হয়েছে। কোনোভাবেই ফেরত দিতে পারবে না ব্যাংক।

সঞ্চয়পত্র বিক্রয়কালে ইস্যুকারী ব্যাংক বা শাখা কর্র্তৃক ওই ব্যাংকে বা শাখায় গ্রাহককে হিসাব খোলার জন্য বাধ্য করা যাবে না। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে একজনের বা ব্যাংকের এক শাখার ইউজার আইডি অন্য ব্যক্তি বা অন্য শাখা কর্র্তৃক ব্যবহার করা যাবে না।

বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজের মাধ্যমে সম্পাদিত লেনদেনের ওপর চার্জ আদায় সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা পিএসডি সার্কুলার নং-১/২০১৩-এর ৪ নং নির্দেশনা এবং বিভিন্ন সময়ে জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে বলেও সার্কুলারে বলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত