টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের এলাকাবাসী। সব মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৫-২০ বার লোডশেডিং হচ্ছে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
তারা বলেন, মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। কিন্তু ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ঘোষণার একদিন আগে থেকেই ইচ্ছে মতো যখন-তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) রাত ৯টা থেকে শুক্রবার (২২ জুলাই) ভোর ৬টা পর্যন্ত পুরো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।
তাদের অভিযোগ, এ ছাড়া বৃহস্পতিবার দিনের বেলা ১৫-১৬ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ দিলে তার ১ থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং নেয়। শুক্রবার ভোর ৬টার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত কমপক্ষে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে।
ওষুধ ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, দিন-রাত অসহনীয় পর্যায়ে লোডশেডিং হচ্ছে। যার ফলে গরমে খুব খারাপ অবস্থা। শিশুদের নিয়েও বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ অফিসের এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি।
শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, শিডিউল অনুযায়ী এলাকা ভিত্তিক ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা মানছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। ফলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং দিচ্ছে তারা। নির্দেশনার একদিন আগে থেকেই দিন-রাতে ব্যাপক হারে লোডশেডিং হচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী সাগর বলেন, কিছুদিন পর শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। একদিকে যেমন অসহনীয় গরম, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে ঘরে থাকা যায় না। ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারছি না। পরীক্ষার আগে এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমরা শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব।
এদিকে ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিভাগ সরকারের বিধি ভঙ্গ করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বইছে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভূঞাপুরে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট। তার মধ্যে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৭-৮ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় অর্ধেক। ফলে লোডশেডিং হচ্ছে। এ ছাড়া এলেঙ্গায় সঞ্চালন লাইনে বৃহস্পতিবার রাতে বজ্রপাতের কারণে সমস্যা দেখা দেওয়ায় শুক্রবার ভোর পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
