ভারত থেকে এলো ২৫ লাখ লিটার জ্বালানি কাঁচামাল ন্যাপথা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২২, ০৪:১২ পিএম

বাংলাদেশে এই প্রথম জ্বালানি পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে ২৫ লাখ লিটার ন্যাপথা আমদানি করা হয়েছে।  ভারতের হলদিয়া বন্দর থেকে মোংলা বন্দর দিয়ে ন্যাপথা পরিবহন করে নরসিংদীর ঘোড়াশাল শীতলক্ষ্যা নদীর একোয়া রিফাইনারি লিমিটেডের জেটিতে পৌঁছেছে। যা পরিশোধিত হওয়ার পর ৮০ শতাংশ অকটেন, ৫ শতাংশ পেট্রোল ও ৭ শতাংশ কোরোসিন উৎপাদিত হবে। 

আজ শনিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য খালাশ কার্যক্রম উদ্ধোধন করেন ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। যা দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডাব্লিউটিএ’র পরিচালক রফিকুল ইসলাম, ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন  বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মাজহার আলম, একোয়া রিফাইনারি লি: ডিরেক্টর অপারেশন এরশাদ হোসেন, সাংহাই শিপ এর ওনার মাসুদুর রহমান, একোয়া রিফাইনাই লি: ডিএমডি সাজেদুল সিরাজ, জিএম জাহাঙ্গীর আলম।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয় প্রথম বারের মতো একোয়া রিফাইনারি লিমিটেডকে ১৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি কাচামাল ন্যাপথা আমদানির অনুমতি প্রদান করে। এরই প্রেক্ষিতে এর প্রথম চালান হিসেবে ১৯শত মেট্রিক টন অর্থাৎ ২৫ লাখ ৩০ হাজার লিটার ন্যাফথা আমদানি করা হয়। যা পরিশোধিত হওয়ার পর ৮০ শতাংশ অকটেন, ৫ শতাংশ পেট্রোল ও ৭ শতাংশ কোরোসিন উৎপাদিত হবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বছরে ৪৫ লক্ষ মেট্রিকটন মালামাল ভারত থেকে নিয়ে আসি। এই প্রথম ভারত থেকে ন্যাপথা বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ এর যে ঘাটতি তার প্রধান কারণ হল ফুয়েলের অপ্রতুলতা। দেশে ন্যাফতার অয়েল আমদানির ফলে ফুয়েলের যে ঘাটতি তা কিছুটা পূরণ হবে। আর সরকার বছরে ১ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিকটন ন্যাফথা নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামীতে আরো ন্যাফথা দেশে আসবে।

ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশনের বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মাজহার আলম বলেন, ভারতের হলদিয়া থেকে দূরত্ব কম হওয়ায় ন্যাপথা খুব দ্রুত ঢাকায় পৌঁছে যাবে। এটির প্রক্রিয়াকরণ করতেও সময় কম লাগে। আগে এটা প্রথমে চট্টগ্রামে আসতো পরে তা একোয়া রিফাইনিং এ আসতো। যার ফলে ভাড়া বেশি পড়তো। এখন সময় কম লাগার কারণে দ্রুত ন্যাপথা থেকে ফুয়েল উৎপাদন করে জ্বালানি সংকট দূর করা যাবে। ভবিষ্যতে আরো বেশি পরিমাণে ন্যাফথা বাংলাদেশে আসবে।

একোয়া রিফাইনারি লি: ডিরেক্টর অপারেশন এরশাদ হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে প্রতি মাসে আমরা সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেট্রিকটন ন্যাপথা বাংলাদেশে নিয়ে আসবো। এটি প্রক্রিয়াকরণ করতে ৫ দিন সময় লাগে। ন্যাপথা পরিশোধিত করার পর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে সারাদেশের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। ভবিষ্যতে এই ন্যাফথা বাংলাদেশের ১০% অকটেনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। দ্রুত সময়ে পৌঁছার কারণে ও দামে কম হওয়ার কারণে এটি আমাদের জন্য সাশ্রয় হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত