আ.লীগ ক্ষমতায় বলেই দেশ এখনো সচল : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২২, ০৬:২৮ এএম

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই বাংলাদেশ এখনো সচল রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উন্নত দেশ হিমশিম খাচ্ছে। ডলারের দাম বাড়ছে, কমছে। জ্বালানির দাম বাড়ছে। উন্নত দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বাড়ছে। এমন দুর্যোগের সময়ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই বাংলাদেশ এখনো সচল রয়েছে।’

গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথসভার শুরুতে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় গণভবন থেকে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাত ধরেই দেশে নির্বাচন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা এসেছে। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়, মানুষ ভালো থাকে। দুর্যোগ-দুর্বিপাকে আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে আছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, তার আদর্শ আমাদের চলার পথের পাথেয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণে আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনে সক্ষম হয়েছি। ১৯৭৫ সালের পর যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা দেশে সন্ত্রাস-দুর্নীতি করেছে। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জনগণকে সেবা দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেই দেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং চলে। যারা এসব কাজে ব্যস্ত থাকেন, তারা তো দেশের জন্য কাজ করবেন না। বিএনপি যখন ছিল তখন বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে এনেছে।’

দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভূমিহীনদের ঘর দেওয়ার কাজ বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন। আজ সারা দেশে ঘর করে দিচ্ছি। যার কিছু ছিল না, আজ তাদের জীবন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। কেউ বাদ যাবে না, সবাইকে ঘর করে দেব।’

এর আগে সকালে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন এবং বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক-২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সমালোচনায় কান না দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, পত্র-পত্রিকা নানা কথা লিখবে, টক শোতে অনেক কথা বলবে, বিরোধী দলগুলো কথা বলবে। হ্যাঁ, বিরোধী দলগুলো বলবেই, বলাই তাদের কর্তব্য। তারা বলে যাক। আমাদের আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে যে আমরা সঠিক পথে আছি কি না, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি কি না, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি কি না এবং দেশের সাধারণ মানুষ অর্থাৎ গ্রামের এই তৃণমূল মানুষটা সে সেবা পাচ্ছে কি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি সেভাবে চিন্তা করি, কে কী বলল, সেদিকে আমাদের খুব বেশি একটা নজর দিতে হবে না। কে কী বলল, সেটা শুনে তা আমরা দেখতে পারি, কোথাও আমাদের কোনো ঘাটতি আছে কি না, সেটুকু আমরা নেব। কিন্তু এই কথায় যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন, কেউ যেন হতাশাগ্রস্ত না হন, আমি এইটুকু বলব।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যখন যে অবস্থা হবে, সেই অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। তারপরও আমাদের যতটুকু নিজেদের ব্যবস্থা আছে সেটা দিয়ে আমরা চলব।’

চলমান বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে করোনাভাইরাস মোকাবিলা, তার ওপর আরেকটা আঘাত আসল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে আবার আমেরিকা রাশিয়ার ওপর দিল স্যাংশন। ডলারে আদান-প্রদান বন্ধ করে দেওয়া। কাজেই আমাদের মতো দেশ না, আজকে উন্নত দেশগুলোও বা ইউরোপ আমেরিকার সকলে এখন কিন্তু ভুক্তভোগী।’

যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সার কেনা, খাদ্য কেনা, জ্বালানি তেল কেনা সবকিছুই কিন্তু বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটা কিন্তু আমরাই না, সারাবিশ্বই আজকে একটা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। কাজেই আমি মনে করি যে, কেউ যদি মনে করেন একটা স্যাংশন দিলেই একটা দেশকে শিক্ষা দেওয়া গেল, সেটা দিতে গিয়ে সবাই কিন্তু সেই শিক্ষা ভোগ করছে। সেই শিক্ষায় এখন সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

বাংলাদেশের চেয়ে উন্নত দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেশি হয়ে যাওয়ার তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি ইংল্যান্ড বলেন, আমেরিকা বলেন বা ইউরোপের দেশ বলেন, প্রত্যেকটা উন্নত দেশের কথাই বেশি বলব, তাদের অবস্থাই হচ্ছে এই ধরনের করুণ। কাজেই আমরা কোথায়?’

সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তারা বা আমাদের অন্য সব সংস্থার প্রত্যেকে স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করছেন বলেই কিন্তু আমরা এখনো আমাদের দেশকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছি। তবুও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে এবং অহেতুক যেন কোনো অপচয় না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত