বগুড়ায় স্ত্রী হত্যার ১৬ বছর পর পলাতক স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২২, ০২:৫০ পিএম

বগুড়ায় স্ত্রী হত্যার ১৬ বছর পর উজ্জ্বল প্রাং (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক একেএম ফজলুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত উজ্জ্বল প্রাং সদর উপজেলার কৈচর দক্ষিণ পাড়া এলাকার গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

উজ্জ্বল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। রায়ে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় চার আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- উজ্জ্বলের ভাই হিরা প্রাং, উজ্জ্বলের মা আলেয়া বেওয়া, কাহালুর আলোক্ষছত্র এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে নাজমুল হোসেন লাবু এবং তার স্ত্রী লাভলী বেগম।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল-১ বগুড়ার  পিপি নরেশ চন্দ্র মুখার্জি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের জুন মাসে উজ্জ্বলের সঙ্গে শহরের সূত্রাপুর এলাকার আকবর আলী শেখের মেয়ে আলো বেগমের বিয়ে হয়। এতে যৌতুক হিসেবে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করে উজ্জ্বলকে।

পরে বিদেশ যাওয়ার জন্য উজ্জ্বল আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বাগবিতণ্ডাসহ সালিশ হয়।

পরে ৫০ হাজার টাকা না দিলে আলো বেগমকে তালাক দেবেন বলে উজ্জ্বল জানান এবং আলো বেগমের পরিবার থেকে আর কোনো টাকা দেয়া হবে না বলেও উজ্জ্বলকে জানিয়ে দেয়।

২০০৬ সালের ১ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে আলো বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১৮ আগস্ট নিহত আলো বেগমের ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর আলম উজ্জ্বলকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর রোববার দুপুরে মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

নিহত আলো বেগমের স্বজনেরা জানান, আলো বেগমের বাবা-মা মারা গেলেও ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় তারা মামলা পরিচালনা করে আসছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত