স্বপ্ন ও সেতু রেখে না ফেরার দেশে পদ্মা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২২, ০৩:১৮ পিএম

চলতি মাসের ১৮ জুলাই দিনাজপুরের বিরামপুর ইমার উদ্দিন কমিউনিটি ক্লিনিকে এক সঙ্গে ৩ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন সাধিনা বেগম।

তাদের নাম রাখা হয় স্বপ্ন, পদ্মা ও সেতু। জন্মের পরপরই চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থভাবে ৩ সন্তান ও প্রসূতি বাড়িতে ফিরে যান।

একসাথে ৩ সন্তানের জন্ম হওয়ায় বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার বইছিল সাধিনা বেগম ও জাহিদুল ইসলাম দম্পতির ঘরে।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর একসাথে ৩ সন্তানের বাবা-মা হওয়ায় আনন্দের জোয়ার বইছিল ওই দম্পতির ঘরে। কিন্তু সেই জোয়ার আর বেশি দিন যেতে পারল না। কারণ ৩ সন্তানের মধ্যে মাত্র ৫ দিন বয়সী পদ্মার মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার বাসায় মৃত্যু হয়। রাতে জানাজা শেষে স্থানীয় নলপুকুরা গোরস্থানে শিশু পদ্মার দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।

বাবা জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি তার স্ত্রী সাধিনা বেগমকে নিয়ে ঢাকার গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তার সংসারে ১৪ বছর বয়সী একটি কন্যা রয়েছে।

চলতি মাসের ৭ তারিখে সন্তান প্রসবের জন্য তার স্ত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে চলতি মাসের ১৮ জুলাই দুপুরে বিরামপুর উপজেলার ইমার উদ্দিন কমিউনিটি হাসপাতালে একসাথে তিন সন্তানে প্রসব করে তার স্ত্রী সাধিনা বেগম।

একই দিনে সাধিনা বেগম ও তিন সন্তানসহ উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে আসে তার পরিবার। এ সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। মেডিকেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু ওয়ার্ডে ইনকিউবেটরে রাখে। এরপর তিনি ঢাকা থেকে সরাসরি মেডিকেল আসেন। তিন দিন চিকিৎসার পর গত ২১ জুলাই সুস্থ সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বাড়ি যান।

তিনি আরও বলেন, ‘রাতে বাচ্চাগুলো প্রস্রাব ও পায়খানা করে তাদের জন্য প্লাস্টিকের কাগজ কিনতে বিকেলে বাজারে গেছিলাম। বাজারে যাওয়া মাত্র স্ত্রী আমাকে ফোন দিয়ে জানায় পদ্মা কেমন জানি করছে। বাড়িতে এসে দেখি আমার মেয়ে মারা গেছে।’

এ ব্যাপারে পল্লী চিকিৎসক মামুনুর রশিদ জানান, আমি বাচ্চাগুলোকে সুস্থই দেখেছি। তারা সুস্থই ছিল। আমার ডাক্তারই অভিজ্ঞতায় মনে হয় পেটে গ্যাসের কারণে মৃত্যু হয়েছে। আমি তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার বলেন, আমি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমি চেয়ারম্যানকে বলেছি। তাদের যদি কোনো প্রকার সহযোগিতা প্রয়োজন হয় তবে আমাকে জানাতে। আমি বলেছি বাকি দুই সন্তানকে তারা যেন হাসপাতালে ভর্তি করায়। আমার সব ধরনের সহযোগিতা তাদের করব। আমার মনে হয় তাদের অজ্ঞতার কারণে বাচ্চাটির মৃত্যু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত