সাফারি পার্কে এসিবিহীন বাসে গরমে দুর্ভোগ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২২, ১০:৫১ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের দর্শনার্থী বহনকারী গাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা বিকল হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের তীব্র গরমের মধ্যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গরম থেকে রেহাই পেতে বাঘ-সিংহের বেষ্টনীতেও গাড়ির জানালা খুলে রাখতে হচ্ছে। এতে চরম নিরাপত্তহীন থাকছেন পর্যটকরা। পার্কের যাত্রী ছাউনিসহ সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে। এমন গরমের মধ্যেও পানি ও গাড়ির অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ পর্যটকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোর সাফারি থেকে বের হয়ে দর্শনার্থীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকে ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে টাকা ফেরত নিতে চাইছেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিত-া বাধছে। কোর সাফারির গাড়ি থেকে নেমে গরমের কারণে শিশুদের শরীর পানি বা ভেজা কাপড়ে মুছে দিতে দেখা গেছে অনেককে।

দর্শনার্থীরা জানান, সাফারি পার্কের মূল আকর্ষণ হলো কোর সাফারি। এখানে নিরাপদ গ্লাসে মোড়ানো গাড়িতে চড়ে উন্মুক্ত প্রাণী দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। ভয়ংকর সিংহ-বাঘ-ভালুকের বেষ্টনীতেও পর্যটকবাহী গাড়ির জানালা খুলে রাখতে হচ্ছে গরম থেকে রেহাই পেতে। এতে চরম ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে গাড়ির ভেতরে থাকা সবাইকে। ভয়ঙকর প্রাণীর দ্বারা যে কোনো সময় ঘটতে পারে অঘটন।

দর্শনার্থী আরিফ খান বলেন, ‘আমার ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে গরমে গাড়িতে বসে থাকতেই কষ্ট হচ্ছিল। মেয়েটা যে আগ্রহ নিয়ে প্রাণী দেখতে এসেছিল তা গরমে ভেস্তে গেল। সে বারবার গাড়ি থেকে নেমে পড়তে চাচ্ছিল। পরে নেমে তাকে ভেজা কাপড়ে শরীর ভিজিয়ে দিয়ে কিছুটা শান্ত করেছি।’

দর্শনার্থী নাহিদা আক্তার বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো বাঘ-সিংহের বেষ্টনীতে গাড়ির জানালা খোলা রাখতে হয়েছে। শিশুরা প্রায় জানালা দিয়ে মাথা বের করে দিচ্ছিল প্রাণী দেখতে। এমন চলতে থাকলে মানুষ আর সাফারি পার্কে ঘুরতে আসবে না।’

‘মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পার্কে কোর সাফারি ও প্রধান ফটক ইজারা নিয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, তারা এমনভাবেই গাড়ি বুঝে নিয়েছে।

কোর সাফারি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাসুদ রানা বলেন, ‘কোর সাফারিতে ৮টি মিনিবাসের মধ্যে দুটির এসি কিছুটা ভালো আছে। অন্যগুলো একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সময় থেকেই এমন। পার্ক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি, তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।’

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. রফিকুল ইসলাম এসব অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পার্কের যেকোনো বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা নিষেধ বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত