রাশিয়ার সোনায়ও নিষেধাজ্ঞা!

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২২, ১০:৫৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জি-৭ জোটের কিছু সদস্য দেশসহ বিশ্বের নেতৃস্থানীয় অর্থনৈতিক ক্ষমতাধর কিছু রাষ্ট্র রাশিয়া থেকে সোনা আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করছে। চলতি সপ্তাহেই এ পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হতে পারে। গত মাসে প্রস্তাবটি প্রথম উত্থাপিত হয়েছিল। ভোটাভুটির আগে এখন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপান তা যাচাই বাছাই করে দেখছে।

যুক্তরাজ্যে সোনা ও রুপার বারের বাজারের প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সমিতি লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন (এলবিএমএ) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘রাশিয়ার পরিশোধিত সোনার বারের গায়ে ছাপ ও তারিখ থাকে, তাই সহজেই এগুলো শনাক্ত করা সম্ভব। ২৪ জুন থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার নতুন সোনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে এ তারিখের আগে পরিশোধিত এবং অন্য দেশে রক্ষিত রাশিয়ার সোনার ওপর এটি প্রযোজ্য নয়।’

কেউ কেউ রাশিয়ার সোনার ওপর ইতিমধ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এলবিএমএ গত মার্চে তাদের তালিকা থেকে রাশিয়ার সোনা পরিশোধনকারীকে বাদ দিলে বেশির ভাগ ক্রেতা সোনার ব্যবসা বন্ধ করে দেন। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব অর্থনৈতিক কারণের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক হতে পারে। কারণ ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার সোনার বাজার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার পেছনের কারণ হলো, রাশিয়ার খনি কোম্পানি, ব্যাংক, এমনকি ধনাঢ্য ব্যক্তিরা যাতে সোনা বিক্রি করে ডলার, ইউরো বা পাউন্ডের মতো হার্ড কারেন্সি আয় করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্যই হলো রাশিয়ার প্রধান আয়ের উৎস সীমিত করে যুদ্ধের সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা উৎপাদনকারী দেশ। ২০২১ সালেও দেশটি ৩১৪ টন সোনা উত্তোলন করে যার বাজার মূল্য ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। রাশিয়ার সোনার খনি মূলত দেশের বাজারে ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে সোনা বিক্রি করে। পরে এগুলো মস্কোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা করা হয় বা রপ্তানি করা হয়। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান ডাটাবেজ কমট্রেডের তথ্যমতে, গত দশকে রাশিয়ার সোনার সিংহভাগ গিয়েছে যুক্তরাজ্যে। বিশ্বে সোনা-রুপার বারের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্য গত বছর ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনা আমদানি করে।

ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ফার্ম সিটি ইনডেক্সের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, এটি রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। হাজারো নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাশিয়াকে চেপে ধরার যে নকশা আঁকা হয়েছে, তার মধ্যে এটি একটি। দ্য ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) মনে করে, জি-৭-এর এই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বের সোনার বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। আর কমোডিটিস ব্রোকার জুলিয়াস বেয়ারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কারস্টেন মেংক বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার সোনা রপ্তানির পথ অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের সোনার বাজারে নিজেদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার সোনা এখন পশ্চিমের বদলে পূর্বে যাচ্ছে। সোনার বাজারে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সম্ভবত খুব সীমিত।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশিরভাগ বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ সোনার বাজার সম্ভবত অস্থির থাকবে। এলবিএমএ বলছে, রাশিয়ার নতুন সোনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বিচ্ছিন্নভাবে দেখা উচিত নয়, রাশিয়ান অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করতে পরিকল্পিত একগাদা পদক্ষেপের এটি একটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত