আগামী ২ অক্টোবর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে প্রধান দুই প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা। দুই প্রার্থী ইতিমধ্যে জোর প্রচারণা শুরু করেছেন। ভোটের আমেজ লেগেছে সব জায়গায়। তবে এ দুই প্রার্থীর বিষয়ে ভুয়া তথ্য নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। এখন যারা নির্বাচনের ভুয়া খবর তৈরি করছে, আগে তারা ভিন্ন একটি বিষয়ের ওপর একই ধরনের কার্যক্রম চালাত। সেটা হচ্ছে করোনাভাইরাস।
এএফপিসহ ৪২টি সংবাদমাধ্যমের সমন্বয়ে গঠিত কমপ্রোভা নামের তথ্য যাচাইকরণ প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কারী সার্জিও লুদতকের দেওয়া তথ্যমতে, সংবাদমাধ্যমগুলোতে আগে করোনা মহামারীর তথ্যে আধিপত্য থাকলেও এখন সে জায়গা নির্বাচনের আধেয় দখল করে নিয়েছে। সম্ভবত ভুয়া খবর তৈরির পরীক্ষাকাল ছিল মহামারী। পরে এটি রাজনীতিতে ব্যবহার করা হয়। এখন নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, এ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা ‘অনেক বেশি জটিল’ হয়ে উঠছে চার বছর আগের তুলনায়। ব্রাজিলের সাও পাওলো ইউনিভার্সিটির ডিজিটাল কমিউনিকেশনের বিশেষজ্ঞ জয়েস সৌজা বলেছেন, করোনার ভুয়া তথ্য নতুন রূপ ধারণ করেছে; যা রাজনীতি, অর্থনীতি, এমনকি বিজ্ঞানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আগে করোনাভাইরাসের নিরাপদ টিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয় ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে। এখন ভাইরাল হওয়া ভুয়া তথ্য দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর অবিশ্বাস সৃষ্টি করছে। সেটা জনমত জরিপ বা ইলেকট্রনিক ভোটিং যেটাই হোক না কেন।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে হোয়াটসঅ্যাপে প্রচুর পরিমাণে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছিল। যদিও তখন ওইসব ভুয়া তথ্য খুব সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে টেলিগ্রাম, টিকটক ও কোয়াইয়ের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এগুলো চাইলেই ব্যবহারকারীদের মধ্যে দ্রুত এবং ভুয়া ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে পারে। একটি জনমত জরিপে নির্বাচনে বলসোনারোর চেয়ে লুলা ডি সিলভার এগিয়ে থাকার তথ্য উঠে আসে। কিন্তু জরিপের কিছু আধেয় প্রার্থীদের প্রতি জনগণের বিশ্বাস কমানোর লক্ষ্যে বানানো হয়েছে।
সাও পাওলো ইউনিভার্সিটির ডিজিটাল কমিউনিকেশনের বিশেষজ্ঞ জয়েস সৌজা বিশ্বাস করেন, এসব আধেয় সমাজের যৌক্তিক আলোচনাকে ধ্বংস করে এবং জনসাধারণের আলোচনায় ঘৃণাকে প্রাধান্য দেয়।
