বিশ্বব্যাপী কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে অনেক কোম্পানির আয় কমে গেছে। তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশের বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেডের ক্ষেত্রে। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটির উৎপাদন ব্যয় কমেছে। পরিচালন ক্ষেত্রেও ব্যয় সাশ্রয়ী অবস্থান দেখা গেছে কোম্পানিটির। এতে করে চলতি প্রথমার্ধে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের নিট মুনাফা প্রায় ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।
বিশ^ব্যাপী করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার পর শিল্পের কাঁচামাল ও জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বাড়তে দেখা গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দাম বাড়ার হার আরও উসকে দেয়। এতে করে পণ্যমূল্য বেড়ে গিয়ে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। আর পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে নিট মুনাফায় চমক দেখাল। হেলথ ফুড ড্রিংকস বিক্রি থেকে কোম্পানির আয় আসে।
যদিও দেশের দুটি বহুজাতিক কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশ ও হাইডেলবার্গ সিমেন্ট কাঁচামাল ও জাহাজ ভাড়ার ব্যয়বৃদ্ধিতে সংকটে ভুগছে। উৎপাদন ব্যয় যে হারে বেড়েছে, আনুপাতিক হারে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়াতে না পারায় চলতি প্রথমার্ধে সিঙ্গার বাংলাদেশের নিট মুনাফা অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। আর কাঁচামালের উচ্চমূল্যের কারণে একই সময়ে বড় অঙ্কের লোকসানে পড়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট।
ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চলতি প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ সময়ে কোম্পানির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় হেলথ ফুড ড্রিংকস হরলিক্স ও গ্লুকোজ পাউডার বিক্রি থেকে কোম্পানির আয় হয়েছে ২১২ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের প্রথমার্ধে ছিল ২২০ কোটি টাকা। তবে বিক্রি বাড়লেও চলতি প্রথমার্ধে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের উৎপাদন ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।
২০২১ সালের প্রথমার্ধে ইউনলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের উৎপাদন ব্যয় ছিল মোট বিক্রির ৫৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় নেমে দাঁড়ায় মোট বিক্রির ৫০ দশমিক ৪ শতাংশে। চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় হয় ১০৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এতে করে চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির মোট মুনাফা হয় ১০৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের প্রথমার্ধে ছিল ৯১ কোটি ৯ লাখ টাকা।
উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি কোম্পানিটির পরিচালন ব্যয়ও কমেছে। চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির পরিচালন ব্যয় হয় ৫৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে পরিচালন ব্যয় কমেছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি প্রথমার্ধে ইউনিলিভার কনজ্যুমারের পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের প্রথমার্ধে ছিল ৩০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৯ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৮ টাকা ৫৯ পয়সা।
২০২০ সালের মার্চে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি গ্লাক্সেস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডের সব উদ্যোক্তা শেয়ার কিনে নেয় ইউনিলিভার। সে সময় জিএসকে বাংলাদেশের উদ্যোক্তা সেটফার্স্ট লিমিটেডের ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার ২ হাজার ২০ কোটি টাকায় কিনে নেয় ইউনিলিভার। এ সংক্রান্ত চুক্তির দেড় বছর পর শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জিএসকে বাংলাদেশের মালিকানায় আসে ইউনিলিভার।
