শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। গত সোমবার সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের সামনের গাজী কালুর টিলায় বুলবুল আহমেদ নামে ওই শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বুলবুল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নরসিংদী জেলায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী নিহতের তথ্য দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। তবে কে বা কারা ওই শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করেছে তা প্রক্টর জানাতে পারেননি।
সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল বলেন, ‘শরীরে স্টেপ করার পর রক্তক্ষরণ হয় প্রচুর। প্রথমে তাকে (নিহত বুলবুল আহমেদ) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তার সেন্স পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ডাক্তাররা বলতে পারবেন ঘটনাস্থলে মারা গেছে নাকি আনার পথে মারা গেছে।’
নিহত শিক্ষার্থীকে ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে উদ্ধার করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম জয়। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দ্বিতীয় ছাত্রী হলের সামনের টিলায় বাংলা বিভাগের এক ছাত্রী প্রথমে তাকে (নিহত বুলবুল আহমেদ) পড়ে থাকতে দেখেন। ওই পথ দিয়ে আমার এক জুনিয়র ফাহিম গেলে তাকে ওই ছাত্রী জানান এবং সে আমাকে ফোন দিলে আমরা এসে বুলবুলকে উদ্ধার করি। তখনো ছেলেটি বেঁচে ছিল, কিন্তু আমরা যখন তাকে নিয়ে ছাত্রী হলের কাছাকাছি আসছিলাম তখন নিস্তেজ হয়ে যায়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিই, পরে তাকে ওসমানী মেডিকেলে নেওয়া হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার বেলাল মিয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে আহত শিক্ষার্থীকে ওসমানীতে নিতে বললে সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাকে সেখানে নিয়ে যাই। কিন্তু পরে ইসিজি করে জানা যায়, তিনি মারা গেছেন।’
