বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সই করতে সম্মত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সিইপিএ হলে পণ্য ও সেবার বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ আরও বেশি বৃদ্ধি পাবে।
গত সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পররাষ্ট্র, শ্রম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সিইপিএ করতে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খান গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে একমত হয়েছেন। এখন ভারতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের এবং উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা হবে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ভারত সফরে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে ভারতের সঙ্গে সিইপিএ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই ২০১৮ সালে সিইপিএ স্বাক্ষর করতে একমত হয়। সিইপিএর মতো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির ধারণা সাধারণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি থেকে অনেক বেশি বিস্তৃত আকারের।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বিশাল বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনা প্রস্তাবিত সিইপিএ’র মূল লক্ষ্য হলেও এই ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে, কারণ ভারতের মতো এত বিস্তৃত অর্থনীতির বিভিন্ন ধরনের চাহিদা মেটানোর মতো পণ্য বৈচিত্র্য বাংলাদেশের নেই।
একই ভাবে, কিছু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সরকার ইতিমধ্যে দেশে ভারতের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি আলাদা অর্থনৈতিক এলাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এমন সুযোগ সৃষ্টি হবে যাতে ভারতের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বড় আকারে বিনিয়োগ করতে পারেন। এটি বাংলাদেশে কর্মসংস্থান তৈরির বড় সুযোগ।
সিইপিএর লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্য সংক্রান্ত জটিলতা, ট্যারিফ, সরকারি ক্রয়, বিনিয়োগ, সংযুক্তি ও বিনিয়োগের সুরক্ষাসহ আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করা। বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার বিভিন্ন জটিলতাকে দূর করার জন্যও এটি একটি বড় আকারের উদ্যোগ।
সিইপিএ ঠিকমতো প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা জন্য তাদের সুবিধামতো চুক্তি বেছে নিতে পারবেন। বর্তমানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) চালু আছে। বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই এশিয়া-প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তির (আপটা) সদস্য, কিন্তু ব্যবসায়ীরা সাফটা ব্যবহার করেন, কারণ এতে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সাফটার আওতায় ২৫টি অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলবিহীন পানীয় দ্রব্য ছাড়া অন্য সব পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা উপভোগ করছে।
ইপিবির তথ্য মতে, গেল অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতের বাজারে ১৫৩ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন। বাংলাদেশ ভারতে ১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। অপরদিকে, বাংলাদেশ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য ভারত থেকে প্রতি বছর আমদানি করে।
