ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছে চলচ্চিত্র ‘দিন-দ্য ডে’। ছবিটি ঘিরে কথা বললেন অনন্ত জলিল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান
সাড়া কেমন পাচ্ছেন...
প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। মানুষের এত ভালোবাসা পাব তা ভাবিনি কখনো। দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখে আমরা ছবিটি নির্মাণ করেছি। ছবিটি নির্মাণের সময় প্রচুর কষ্ট করেছি। সেই কষ্ট সার্থক হয়েছে বলে মনে করি। আবার বলব, আমার আগে সিনেমা নিয়ে মানুষের এত আগ্রহ আর দেখিনি।
‘দিন-দ্য ডে’র কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল...
আমরা নিজেরা নিজেদের ভেতর পরিকল্পনামাফিক কাজগুলো করেছি। প্রতিদিন রাত ৮টার ভেতরে শ্যুটিং শেষ করে সবাই বসে পরদিনের পরিকল্পনা করতাম, সেই পরিকল্পনা করতে করতে রাত ১২টা বেজে যেত। এরপর আবার পরের দিন সকাল থেকেই শুরু হতো কঠিন পরিশ্রম। এভাবেই আমরা কাজ করেছি। ইরান, আফগানিস্তানে কাজ করাটা বেশ কঠিন ছিল। মরুভূমির ভেতর কাজ করতে হয়েছে। আফগানিস্তানে পুলিশি গার্ড নিয়ে অভিনয় করতে হয়েছে। যেখানে মাদকের চাষ করা হয় সেখানে গিয়ে আমরা শ্যুটিং করেছি। সব মিলিয়ে কাজগুলো খুব কঠিন ছিল।
নিজের ভুল...
‘দিন-দ্য ডে’ যখন আমি নিজে দেখি তখন নিজের ভুলগুলো খুঁজে বের করি। প্রচুর ভুল আমার চোখে পড়েছে। এই ভুলগুলো সংশোধনের চেষ্টা করব। আশা করি আমাদের পরবর্তী সিনেমা ‘নেত্রী-দ্য লিডার’ ছবিতে এই ভুলগুলো আর থাকবে না।
সমালোচনা...
অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন না, তারা আমার সমালোচনা করেন। যারা আমার সমালোচনা করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলব, আমার সমালোচনা করার আগে অনন্ত জলিল হয়ে দেখাও। আমার মতো হয়ে দেখাও। আমি অশিক্ষিত নই, আনস্মার্ট নই। আমি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পড়ালেখা করে এসেছি। আমি নিজে একজন সিআইপি। আমি ব্যবসা ডেভেলপ করেছি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আমার অবদান আছে।
নেতিবাচক প্রচারণা...
আমরা ‘দিন- দ্য ডে টিম’ কোনো নেতিবাচক প্রচারণা করছি না। কারণ আমার নিজস্ব কোনো টিম নেই। আমি আর বর্ষা যতটুকু পারছি, প্রচারণা করছি। তবে যারা আমাকে ভালোবাসেন তারা আমার পক্ষে কথা বলছেন আবার যারা আমাকে অপছন্দ করেন তারা নেতিবাচক প্রচারণা করছেন।
তারকাদের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যাত...
আমি আমাদের গুণী শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম সিনেমা দেখার জন্য। কয়েকজন আসেন। কিন্তু বেশিরভাগই আসেননি। কেন যাননি, এটা নিয়ে কিছু বলতে পারব না। পরে শুনেছি, অনেকে অনেক কথা বলেছেন। তবে আমি বলব, আমি কোনো মিথ্যাচার করিনি। আমি মুখে এক কথা, মিডিয়ার সামনে এক কথা, আড়ালে আরেক কথা বলার মানুষ না। আমি সব জায়গাতেই এক কথাই বলি। আমি কারও নাম ধরে কিছু বলব না, তবে এতটুকু বলব, তারা মুখে বলে সবাই মিলে চলচ্চিত্রের এক পরিবার কিন্তু ভেতরে ভেতরে সেপারেট। দেখেন এফডিসিতে একটা মিলাদ হবে অনন্ত জলিলকে দরকার, একটা পিকনিক হবে অনন্ত জলিলকে দরকার। অনন্ত জলিল কি ইন্ডাস্ট্রির জন্য কিছুই করেনি। শিল্পী সমিতিতে কোনো অবদান রাখেনি। যারা মিথ্যা প্রচার করে, বলে আমরা এক ফ্যামিলি, তারা আসলে এক নয়। তারা মিডিয়ায় একটা বলে, ভেতরে আরেকটা বলে। এসব মিথ্যাচার ঠিক না। অনন্ত জলিলের মতো সৎ থাকতে হবে, সাহসী থাকতে হবে।