দিনাজপুরের পার্বতীপুরে জন্মসনদ ছাড়া আবেদন করতে না পারায় চলতি অর্থবছরে মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসার ১৫ হাজার ও প্রাথমিকে অধ্যয়নরত তিন হাজার শিশুশিক্ষার্থী উপবৃত্তির অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জন্মসনদের জন্য পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও তা পাননি অভিভাবকরা। এর ফলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে স্কুল-কলেজে ভর্তি, নতুন ভোটার, চাকরি, পাসপোর্ট, পেনশন, ক্রয়-বিক্রয়সহ সব গুরুত্বপূর্ণ কাজে এ সনদের বাধ্যবাধকতা থাকায় পার্বতীপুর পৌরসভাসহ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে জন্মনিবন্ধন করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন নাগরিকরা।
পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল হক প্রধান বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এ উপজেলার ১০০ মাধ্যমিক, ৩৯ মাদ্রাসা ও ১২ কলেজ মিলে ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির আওতায় নেওয়া হয়। এ জন্য শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ এলাকার ইউনিয়ন কিংবা পৌরসভা থেকে ১৭ ডিজিটের জন্মসনদ চাওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ কেবল ২০ হাজার জন্মসনদ দিয়ে আবেদন করেন নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে। জন্মসনদের অভাবে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করতে ব্যর্থ হয়।
পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, এই উপজেলা ও পৌরসভা এলাকার ২০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ হাজার ৩৬৫ শিশুশিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ হাজার ৩৩৬টি আবেদন এসেছে সফটওয়্যারের মাধ্যমে। জন্মসনদের অভাবে ৩ হাজার ২৯ শিশু আবেদন করতে ব্যর্থ হয়।
পার্বতীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আহছান হাবীব বলেন, জন্মসনদের অভাবে আমার কলেজে ১৫৪ শিক্ষার্থীর আবেদন করা যায়নি।
জন্মসনদ করতে একাধিক অভিভাবক জানান, পার্বতীপুর পৌরসভায় অনেক আগে আবেদন করলেও তারা জন্মসনদ দিচ্ছে না। মাসের পর মাস ঘুরাচ্ছে। তারা সার্ভার জ্যাম, কখনো উপজেলা অফিসে দেরি হচ্ছে বলে নানা বাহানায় সময়ক্ষেপণ করছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পৌরসভার বাইরের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদেই বলা হয় ‘সার্ভার জ্যাম’। তথ্য সেবাকেন্দ্র থেকে অভিভাবকদের পাঠানো হয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউপি সচিব, উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় অফিসে অনুমোদনের জন্য স্বাক্ষর নিতে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবকরা।
পার্বতীপুর শহরের স্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা নুজহাত জেরিন বলেন, ১৭ ডিজিটের জন্মসনদ নম্বর দিতে না পারায় আমার বিদ্যালয়ের ৮৭ শিক্ষার্থীর আবেদন সফটওয়্যার নেয়নি। এতে উপবৃত্তি না পাওয়া শিশু ও তাদের অভিভাবকরা হতাশ।
পার্বতীপুর পৌরসভা কার্যালয়ে তথ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সাখাওয়াত হোসেন জানান, শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এক দিনেই জন্মসনদ দেওয়া যাচ্ছে। তবে এর ওপরে যাদের বয়স, তাদের উপজেলা অফিসের মাধ্যমে দেওয়ায় এ বিলম্ব হচ্ছে।
পার্বতীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ক খ ম আলাওল হাদী বলেন, জন্মসনদের অভাবে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি না পাওয়াটা দুঃখজনক। বিষয়টির সঠিক সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
