টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে আনারসের ট্রাকে চেপে নীলফামারী চলে আসা মুখপোড়া বা কালোমুখ হনুমানটিকে ট্র্যাংকুলাইজার বন্দুকের মাধ্যমে চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে মধুপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন নীলফামারী বন বিভাগের কর্মীরা। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় শহরের জনতা ব্যাংকের অফিসের ছাদ থেকে ট্রাংকুলাইজার বন্দুকের সাহায্যে হনুমানটিকে অজ্ঞান করে খাঁচায় বন্দি করা হয়। এরপর গাড়ি করে তার আবাসভূমির পথে রওনা দেয় বন বিভাগের লোকজন। সেখানে এটিকে মুক্ত করা হবে।
নীলফামারী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোনায়েম খান বলেন, ‘হনুমানটি নীলফামারী শহরে আসার পর কিছু ছেলেপেলে তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। আমরা বারবার মাইকে ঘোষণা দিয়েও তাদের দমাতে পারছিলাম না। বাধ্য হয়ে আমরা কালোমুখ হনুমানটিকে রক্ষার্থে বন্যপ্রাণী বিভাগের ক্রাইম ইউনিট ট্রাংকুলাইজারের মাধ্যমে শুক্রবার সকালে খাঁচাবন্দি করি। হনুমানটিকে সুস্থ করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।’
নীলফামারী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন বলেন, ‘১৭ দিন ধরে হনুমানটিকে শহরে দেখা যাচ্ছিল। বন বিভাগকে হনুমানটির নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বলা হলেও দুষ্টু ছেলেদের অত্যাচারে এটি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছিল না। হনুমানটিকে বিরক্ত না করতে শহর জুড়ে প্রচারণা চালালেও শান্তি পাচ্ছিল না এটি। পরে গত বৃহস্পতিবার হনুমানটি আমার বাংলোতে এসে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সন্ধ্যার পর আবার চলে যায়।’
