লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা

পানির অভাবে আমনের বীজতলা করতে পারছেন না চাষিরা

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২২, ১১:১৫ পিএম

আষাঢ় গিয়ে শ্রাবণ চললেও খুলনায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের দেখা নেই। বৃষ্টি না হওয়ায় পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে কৃষকদের মাঝে। পানির অভাবে কৃষকরা বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না। অনেকে কৃত্রিমভাবে পানির ব্যবস্থা করে বীজতলা প্রস্তুত করলেও চারা রোপণ করতে পারছেন না। ফলে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২১ সালের জুলাই মাসে যেখানে গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল প্রায় ৩৫৬ মিলিমিটার, সেখানে চলতি বছরের জুলাই মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১০০ মিলিমিটারেরও কম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খুলনা অঞ্চলের অধিভুক্ত চার জেলা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৫ লাখ ২০ হাজার ৬৩৩ হেক্টর। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই অঞ্চলে রোপা আমন (হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের) বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৩৫২ হেক্টর। ২৫ জুলাই পর্যন্ত এই লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক পূরণ হয়েছে মাত্র। অথচ গত অর্থবছরে এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বীজতলা হয়েছিল। অপরদিকে, চলতি অর্থবছরে এ অঞ্চলে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৯৯ হাজার ১১০ হেক্টর। ২৫ জুলাই পর্যন্ত আবাদ হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৬২৮ হেক্টর, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২ শতাংশের কিছু বেশি। গত বছর এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার ১০ দশমিক ৪ শতাংশ আবাদ হয়েছিল।

কৃষকরা জানান, যথেষ্ট বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন চাষ নিয়ে বেশ শঙ্কায় রয়েছেন তারা। প্রতি বছর ১৬ জুলাই থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রোপা আমন চাষের মৌসুম (খরিপ-২) এবং ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রবি মৌসুম হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে খুলনার প্রেক্ষাপটে ১৬ জুলাই থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রোপা আমনের ফসল ওঠাতে সময় লাগছে।

ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া এলাকার কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সেচের মাধ্যমে বীজতলা তৈরি করেছি। পানির অভাবে চারা ভালো হয়নি। প্রতি বছর ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করি, এবার পানি না হলে ২ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করাও কঠিন হবে।’

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুস সামাদ বলেন, ‘বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গত বছরের তুলনায় লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম হয়েছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কৃষকদের আমরা সম্পূরক সেচ দিয়ে বীজতলা প্রস্তুতের জন্য পরামর্শ দিয়েছি। যেহেতু এখনো বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, তাই বীজতলা প্রস্তুত থাকলে আর পরিমিত বর্ষার দেখা মিললে আশা করি আমন চাষে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হব।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, ‘বৃষ্টি না হওয়ায় এবার আমন চাষ কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। অনেক কৃষক হতাশ হয়ে পড়েছেন। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো যথেষ্ট সময় রয়েছে, পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত