দেশে গত আড়াই বছরে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২১৯ জন। ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের গত ২৯ জুলাই পর্যন্ত সময়ে রেলক্রসিংয়ে ১১৬টি দুর্ঘটনায় তারা মারা গেছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে গেটম্যান না থাকা, দায়িত্বে অবহেলা, জনবলসংকট ও মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করেছে তারা।
গতকাল শনিবার সংগঠনটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০২০ সালে ৩৮টি রেলক্রসিং দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬৯ জন, ২০২১ সালে ৪৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৭৬ এবং ২০২২ সালের ২৯ জুলাই পর্যন্ত ৩৫টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, বহু রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান ও গেটবারের ব্যবস্থা নেই, বৈধ রেলক্রসিংয়ে গেটম্যানদের দায়িত্বে অবহেলা, গেটম্যান হিসেবে লোকবলের সংকট, যানবাহনের চালক ও সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে অসচেতনতা ও অধৈর্য মানসিকতা এবং দুর্ঘটনায় দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া এবং রেলপথ ব্যবস্থাপনায় আইনের শাসনের অভাব।
রেলক্রসিং দুর্ঘটনা এড়াতে গেটম্যান নিয়োগ ও উপযুক্ত গেটবারের ব্যবস্থা করা, রেলক্রসিংয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার, রেলপথ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিতসহ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে ২ হাজার ৯৫৯ কিলোমিটার রেলপথে ২ হাজার ৮৫৬টি রেলক্রসিং আছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৯৫টি বৈধ ও ১ হাজার ৩৬১টি অবৈধ। ৯৬১টি রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই। দেশে ৮২ শতাংশ রেলক্রসিং অনিরাপদ।
এ বিজ্ঞপ্তিতে শুধু রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, এর বাইরে রেলট্র্যাকে বহু দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে সেগুলো এ হিসাবে যুক্ত করা হয়নি।
