কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে পর্বত

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ১০:৪৮ পিএম

আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার রাজনীতি পুরোপুরি গোষ্ঠীপ্রধান। দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তা যতটা ভোটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, তার চেয়েও বেশি গোষ্ঠী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আর এক্ষেত্রে দেশটিতে আধিপত্য বিস্তারকারী গোষ্ঠী হলো কিকুয়ু। কেনিয়ার সবচেয়ে বড় এই আদিবাসী গোষ্ঠীটির বাস মাউন্ট কেনিয়ায়। মাউন্ট কেনিয়া হলো গোটা আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত।

১৯৬৩ সালে কেনিয়া স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আছে মাউন্ট কেনিয়া। দেশটির চারজন প্রেসিডেন্টের মধ্যে তিনজনই কিকুয়ু গোষ্ঠীর। এরা হলেন জোমো কেনিয়াত্তা, তার ছেলে উহুরু এবং মাওয়াই কিবাকি। দেশটির ক্ষমতার রাজনীতিতে কিকুয়ুদের আধিপত্যের অন্যতম কারণ ওই অঞ্চল থেকেই ব্রিটিশবিরোধী মাও মাও বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল। এর পর থেকে দেশটিতে যখনই কোনো রাজনৈতিক জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে নেতৃত্ব দিয়েছে কিকুয়ুরা।

তবে শুধু অতীত ঐতিহ্যই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও মাউন্ট কেনিয়া অনেক সমৃদ্ধ। নিজেদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য দিয়ে কিকুয়ুরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে কেনিয়ার অন্য অঞ্চলের মতো তাদের কোনো কিছুর জন্য নির্ভর করতে হয় না। বিশ্লেষক হার্মেন মানইয়োরার মতে, মাউন্ট কেনিয়া হলো গোটা কেনিয়ার মেরুদণ্ড। ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালে দেশটির আদিবাসী শাসিত রাজনীতিতে কিকুয়ু আদিবাসীরা লুয়স এবং কালেঞ্জি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। তখন সংঘর্ষে এক হাজার ১০০’র বেশি মানুষ নিহত হয়।

কেনিয়ার দুই কোটি বিশ লাখ ভোটারের মধ্যে মাউন্ট কেনিয়া অঞ্চলেই ভোটারের সংখ্যা ৬০ লাখের বেশি। ফলে এই অঞ্চলের মানুষ এককভাবে যে প্রার্থীকে সমর্থন দেবে তারই প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এবারের নির্বাচনে কিকুয়ুদের পছন্দ মার্থা কারুয়া। তিনি কেনিয়ার সাবেক বিচারমন্ত্রী, যাকে আয়রন লেডি নামেই সবাই চেনে। তিনি কিকুয়ু গোষ্ঠীর সদস্য এবং জুবিলি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান। প্রেসিডেন্ট পদে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে কেনিয়াত্তা ও অডিংগার মধ্যে জোট হয়েছে। এই জোটের কারণে কিকুয়ুরা এবার তাদের সাবেক নেতা উহুরুর পক্ষত্যাগ করেছে। তাদের মতে উহুরু একজন বিশ্বাসঘাতক। তবে দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাউন্ট কেনিয়ার আশীর্বাদে এবার মার্থাই হবেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত