তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের অনুরোধ এসইসির

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ১১:১০ পিএম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনার অনুরোধ জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএপিএলসি) নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এমন অনুরোধ জানিয়েছেন কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। এজন্য প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজ আইন থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বিকেলে এসইসি ভবনে বর্তমান পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে এসইসির কমিশনার শেখ সামসুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিএপিএলসি নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিএপিএলসির সভাপতি ও এসিআই লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলাসহ বিভিন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে কমিশনের মুখপাত্র ও এসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বিএপিএলসির সঙ্গে বৈঠকে সেকেন্ডারি বাজারে দুভাবে বিনিয়োগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরমধ্যে একটি হচ্ছেÑ কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকরা যাতে ঘোষণা দিয়ে নিজ কোম্পানির শেয়ার কেনেন। যেহেতু এখন শেয়ার দর যৌক্তিক মূল্যের চেয়ে অনেক কম রয়েছে। তাই তারা ঘোষণা দিয়ে শেয়ার কিনতে পারেন। তবে ঘোষণা দিয়ে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এক্ষেত্রে একটি বাধা হচ্ছে, কোম্পানির হিসাব বছর শেষ হওয়ার দুই মাস আগে থেকে এবং হিসাব বছর শেষে কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা-পরিচালকদের নিজ কোম্পানির শেয়ার কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এক্ষেত্রে যদি কেউ নিজ কোম্পানির শেয়ার কিনতে চায়, তাহলে সংশ্লিষ্টরা কমিশনে আবেদন করলে, তা বিবেচনা করা হবে।

এছাড়া তালিকাভুক্ত সব কোম্পানি যাতে নিজস্ব পোর্টফোলিও গঠন করে মৌলভিত্তি বিবেচনায় অন্য কোম্পানির শেয়ার কেনার মাধ্যমে সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগ বাড়ায় সে অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন। এতে করে পুঁজিবাজারে নতুন তহবিল আসবে এবং বাজারের চাহিদা অনেকটা বাড়বে।

গতকালের সভায় বিএপিএলসির নেতারা জানতে চেয়েছেন, যেহেতু কোম্পানি আইন অনুযায়ী, আমাদের দেশে বাই-ব্যাক অনুমোদিত নয়, সেক্ষেত্রে কোম্পানি যদি সাবসিডিয়ারি বা অ্যাসোসিয়েট গঠন করে মার্কেট মেকারের লাইসেন্স চায় কমিশন তা বিবেচনা করবে কি-না। সভায় এ বিষয়ে বিএপিএলসি নেতাদের আশ^স্ত করা হয়েছে বলে রেজাউল করিম জানিয়েছেন।

এর বাইরে পুঁজিবাজারে ভালো সিকিউরিটিজ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে বাড়ানোর জন্য সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের বিষয়ে জোর দিয়েছে বিএপিএলসি। সভায় প্রতি তিন মাসে বিএপিএলসি ও এসইসি যৌথভাবে এ ধরনের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য ইস্যুয়ার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।      

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত