অবরোধে স্থবির চবি ক্যাম্পাস, ক্লাস পরীক্ষা স্থগিত

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ০২:১১ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধে নেমেছে পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের একাংশ। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগের ক্লাস ও চারটি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শাটল ট্রেন ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বাসও চলাচল করেনি।  

চবি ক্যাম্পাসে সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল সোমবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে তালা দিয়ে অবস্থান নেয় পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। চবি ছাত্রলীগের এই অংশটি ক্যাম্পাসে ‘বিজয় গ্রুপ’ নামে পরিচিত। ক্যাম্পাসে অটোরিকশা ছাড়া কোনো ধরনের যান চলাচল করতে দেওয়া হয়নি।   

একাধিক আন্দোলনকারীর দাবি, জামায়াত-শিবিরের ‘ক্যান্টনমেন্ট’ খ্যাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ভয়মুক্ত করেছিলেন। অথচ সেই নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিবাহিত, অছাত্র জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি তারা মানেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে।   

অবরোধ চলাকালে গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন পদপ্রত্যাশীরা। এসময় তারা ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- “সদ্য ঘোষিত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াসকে আজীবন ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি বর্ধিত করা। সব অছাত্র, জামায়াত-বিএনপি সংশ্লিষ্ট ও বিবাহিতদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া। ৫০ জন ‘ত্যাগী’, ‘মেধাবী’ ও ‘নিয়মিত’ ছাত্রকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পদবিতে সিনিয়র-জুনিয়র ক্রম বজায় রাখা।”     

চবি সূত্রে জানা যায়, গতকাল ছাত্রলীগের এই অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট, ফাইন্যান্স বিভাগ ও ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। 

এ প্রসঙ্গে চবি’র ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চৌধুরী আমির মোহাম্মদ মুছা বলেন, ‘অবরোধের কারণে শিক্ষার্থীদের বহনকারী শাটল ট্রেন ও শিক্ষকদের বাস ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্থগিত হওয়া এসব পরীক্ষার সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।’   

মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর পর গত রবিবার রাতে ৩৭৬ সদস্যের চবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কমিটিতে ৬৯ জনকে সহ-সভাপতি, ১২ জনকে যুগ্ম সম্পাদক এবং ১১ জনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেয়ে পদধারীরা যখন উচ্ছ্বসিত, ঠিক তখনই ঘোষিত কমিটিতে পদবাণিজ্য ও অছাত্র দিয়ে কমিটি ঘোষণার অভিযোগে এনে অনির্দিষ্টকাল অবরোধের ডাক দেন ছাত্রলীগের একাংশের পদপ্রত্যাশীরা। গত রবিবার রাতে কমিটি ঘোষণার পরপরই রাত ২টা থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন তারা। 

এর আগে ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই চবি ছাত্রলীগের দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটিতে রেজাউল হক রুবেলকে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও ইকবাল হোসেন টিপুকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণার ৩ বছর ১৬ দিন পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার পরই বিরোধিতার মুখে পড়ল। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত