এবার মোসাদ্দেকের নেতৃত্বে সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ০২:১১ এএম

ভুল কিছু হয়নি। নতুন চেহারার বাংলাদেশ সিরিজের দুই ম্যাচেই দারুণ খেলেছে। প্রথমটিতে হারলেও তাতে ছিল সাহসী ক্রিকেটের ছোঁয়া। পরের ম্যাচে দাপুটে ক্রিকেট দিয়ে জয় এবং সিরিজে ফেরা। সেই একই ছন্দ নিয়ে সিরিজ জয়ের মিশনে আজ নামবে বাংলাদেশ। দল থাকবে অপরিবর্তিত! ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজমেন্ট থাকবেন নিশ্চিন্ত। সব ঠিক থাকলেও একটু গড়বড় হয়ে গেল। নুরুল হাসান সোহানের ইনজুরিতে অধিনায়ক বদল করতে হলো। দায়িত্ব পেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। নুরুলের বদলে ডাক পেলেন মাহমুদউল্লাহ। এবার তৃতীয় ম্যাচের একাদশ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তাই সিরিজ জয়ের ছক বদলে গেল দল গঠনের ছকে। অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে নবম অধিনায়কের হাত ধরে নতুনদের সিরিজ জয়ের চিন্তাটাই আগে থাকবে।

দুই সিরিজ আগেও জাতীয় দলের দূরে থাকা মোসাদ্দেক এখন অধিনায়ক। নুরুলের ইনজুরির পর লিটন দাশের নেতৃত্বের সম্ভাবনাই বেশি ছিল। এর আগেও একটি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই ওপেনার। কিন্তু তাকে ছাপিয়ে ভোট পেয়ে গেলেন আগের ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া মোসাদ্দেক। ঘরোয়া ক্রিকেটে নেতৃত্বে দেওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক মোসাদ্দেকের। ২০১৯ থেকে মোট ৩৬ ম্যাচে আবাহনীর অধিনায়কত্ব করেছেন। এছাড়া গত বিপিএলে সিলেট থান্ডারের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। এছাড়া লম্বা ফরম্যাটে ৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে বরিশাল বিভাগ ও বিসিএলে সেন্ট্রাল জোনকেও নেতৃত্ব দেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই অভিজ্ঞতাগুলোই এগিয়ে রাখল মোসাদ্দেককে।

নেতৃত্বের প্রথম ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আছে তার। আবাহনী সতীর্থ মুনিম শাহরিয়ার টানা দুই ম্যাচে রান পাচ্ছেন না। ওদিকে খুলনায় এইচপি ক্যাম্পে ৮৭ বলে সেঞ্চুরি করা পারভেজ হোসেন ইমন আছেন সুযোগের অপেক্ষায়। এই ম্যাচে তাই ওপেনিংয়ে পরিবর্তনটা অসম্ভব কিছু না। আর একটি জায়গায় অবশ্যই পরিবর্তন আসছে। অধিনায়ক নুরুলের জায়গায় মাহমুদউল্লাহই অভিজ্ঞতার বিচারে একাদশে ডাক পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে।

সিরিজের শেষ ম্যাচটি হবে প্রথম ম্যাচের পিচে। তাই ব্যাটিং স্বর্গে আরও একটি রান উর্বরা ম্যাচের অপেক্ষা। সেইদিক থেকে ব্যাটসম্যান বেশি খেলানোর পক্ষেই হাঁটতে পারে বাংলাদেশ। গত ম্যাচে ৬ ব্যাটসম্যান ও ৫ বোলার ছিলেন একাদশে। এই ম্যাচেও একই ফরমেশনে যাবে বাংলাদেশ। তাই শুধু ওপেনিং ও সোহানের জায়গাতেই বদল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিতের স্বপ্নে বিভোর দলের বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। নতুন দলের তরুণদের জন্য তার এটাই চাওয়া। প্রথম ম্যাচের ভুল শুধরে দল দ্বিতীয় ম্যাচে যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল, ডোনাল্ডের কাছে এটাই বড় ব্যাপার। শেষ ম্যাচেও বোলিং কোচ এমন কিছুর দিকে তাকিয়ে, ‘প্রথম ম্যাচে আমরা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পেরে উঠিনি। কিন্তু ফিরে আসাটাই গুরুত্বপূর্ণ, ফিরে আসার ক্ষমতাই বেশি আলোচিত হয়। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের জাত চিনিয়েছে। আমরা যেভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট করেছি এবং সঠিকভাবে প্রমাণ করেছি যে গত ম্যাচটি পরিশ্রম দিয়ে আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তো শেষ ম্যাচটি ফাইনাল, প্রথম ম্যাচে যে পিচে হয়েছে সেখানেই হবে। আমরা দারুণ ম্যাচের অপেক্ষায় আছি।’

খেলাটা প্রথম ম্যাচের পিচে ফিরছে বলে একটু ভয়ও আছে বাংলাদেশের। ওই ম্যাচে দলের তিন পেসার রান দিয়েছেন বেহিসাবি। সিরিজ ফাইনাল ম্যাচে রান আটকানো না গেলে জয় কঠিন হবে বাংলাদেশের। ওই ম্যাচে বাজে পারফরমের জন্য সিমারদের দোষ না দিয়ে উন্নতির আশা করছেন ডোনাল্ড, ‘আপনি যত ভালো দলই হোন না কেন বাজে দিনে বোলিং ইউনিট হিসেবে এমন হতেই পারে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে স্পিনাররা দারুণ শুরু এনে দেয় এবং শেষদিকে পেসাররা ভালো শেষ করেছে। আগামীকালও আমাদের এটা করতে হবে। গত ম্যাচে আমরা দেখিয়েছি আমরা কতটা স্মার্ট হতে পারি, শেষ ম্যাচেও এভাবে ফিরে আসতে চাই। দ্বিতীয় ম্যাচে যা ছিল তার চেয়ে বোলাররা ৫ বা ৮ ভাগ উন্নতি করুক।’

উন্নতিটা নিশ্চিত হবে সিরিজ জয় দিয়ে। বাংলাদেশের লক্ষ্যও এটাই। সাহসী ক্রিকেট দেখার আশায় এ সিরিজ হারলেও ক্ষতি ছিল না। সেখানে ভালো কিছুর সম্ভাবনা শতভাগ। তাই নেতা বদল হলেও দলের লক্ষ্য ঠিকই থাকবে সাহসী ক্রিকেটে সিরিজ জয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত