অবৈধ ক্লিনিকের ‘দখলে’ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স!

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ০২:২৫ এএম

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়ার কথা। আর তৃতীয় তলায় হওয়ার কথা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দাপ্তরিক কার্যালয়। কিন্তু ভবনটিতে এর কোনোটিই হয়নি। পুরো ভবনে চলছে একটি বেসরকারি হাসপাতাল। মৌখিক চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে আধুনিক হাসপাতাল নামের প্রতিষ্ঠানটি সেখানে এমনভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে যে, দেখে মনে হয় পুরো ভবনটিই তাদের দখলে। হাসপাতাল মালিক নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ভবনের কিছু অংশ পরিবর্তনও করেছেন। তাদের ব্যানার-সাইনবোর্ডে ঢাকা পড়েছে ভবনের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালও। অথচ এই হাসপাতালটির নেই কোনো অনুমোদনও। বিভিন্ন সময় অভিযানে জরিমানার পাশাপাশি সাময়িক বন্ধও হয়েছে। তবে নানা কৌশলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ‘ফাঁকি’ দিয়ে নতুন করে শুরু করেছে কার্যক্রম। 

ঘিওর সরকারি কলেজ সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি ২০১৭ সালের ১০ মে উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক ম মোজাম্মেল হক ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়। এর আগেই মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ৯ জুন সারা দেশের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ভাড়া ও ব্যবহার সম্পর্কিত একটি পরিপত্র জারি করেছিল। পরিপত্রে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের তৃতীয় তলায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় তলা দোকানের জন্য ভাড়া দেওয়া যাবে। প্রতিষ্ঠানের অমর্যাদা হয় এমন কোনো কাজে ভবনটি ব্যবহার করা যাবে না। তবে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বেসরকারি হাসপাতালের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে পুরো ভবনটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘিওর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনের অংশ ও সীমানা প্রাচীর এমনভাবে সাজানো হয়েছে দেখে মনে হচ্ছে একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভবন। ভবনের সামনের পুরো অংশই হাসপাতালের নাম সংবলিত বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। সীমানা প্রাচীর জুড়ে লেখা হয়েছে চিকিৎসকদের নামের তালিকা। বিষয়টি বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হলে তিনি হাসপাতালের কার্যক্রম গত জুন মাসে বন্ধ করে দিয়েছেন।

ঘিওর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স কমিটির সদস্য সাবেক ডেপুটি কমান্ডার কে, এম সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগের ইউএনও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি হাসপাতালের জন্য ভাড়া দেন। এখন হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ কমপ্লেক্সটিতে যেভাবে সাইনবোর্ড ও দেয়াল লিখন করেছে তাতে বোঝার উপায় নেই এটি হাসপাতাল না মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মানিকগঞ্জের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপক কুমার ঘোষ বলেন, ঘিওর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সৌন্দর্য ঢাকা পড়েছে ক্লিনিকের ব্যানার-বিলবোর্ডে। দ্রুত এসব সাইনবোর্ড অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হাসপাতালটির কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই এবং ভবনের কিছু অংশ নিয়ম বহির্ভূত পরিবর্তন করে হাসপাতাল মালিক ডেকোরেশন করেছেন।

এ বিষয়ে হাসপতাল কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল মালিককে বারবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি। তবে ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাসিব আহসান বলেন, ঘিওর আধুনিক হাসপাতাল নামের প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় অনেক কাগজপত্র নেই। দুই মাস আগেও সেখানে অভিযান চালানো হয়। জরিমানাও করা হয়। 

ইউএনও হামিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি এ উপজেলায় যোগদানের আগেই ভাড়াটিয়া চুক্তি ছাড়াই ঘিওর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। খবর পেয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লিখিত চুক্তি ছাড়া কীভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল তা উদঘাটন করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লক্সে ভবনটির মর্যাদা অক্ষুণœ রেখে ভবিষ্যতে ভাড়া দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত