সড়কটি এখন মরণফাঁদ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ১১:৪১ পিএম

খুলনার কয়রা উপজেলার কয়রা-বেতকাশী সড়কের সদর থেকে কাশির হাটখোলা খেয়াঘাট পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ৮ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই এসব গর্ত পানিতে ভরে যায়। তখন চালাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালকসহ সাধারণ মানুষ। 

সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের চালকরা জানান, কয়রা সদরের দক্ষিণাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও পাতাখালী ইউনিয়নের মানুষের কয়রা উপজেলা সদর ও খুলনা জেলা সদরে যাতায়াতসহ মালামাল আনা নেওয়ার এটি একমাত্র সড়ক। এই সড়ক ধরে দক্ষিণ বেদকাশী ও উত্তর বেদকাশীর পুলিশ ক্যাম্প, ফরেস্ট, কাস্টমস, পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছোট-ছোট ছেলেমেয়েরা যাতায়াত করে। এ ছাড়া প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে এ সড়ক দিয়ে উপজেলা সদর থেকে খুলনা শহরে যাতায়াত করে। বিশেষ করে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিছুদিন আগে প্রতিদিন কয়েকশ ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করত। এখন যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধের পথে।

উপজেলা সদরের তিন রাস্তার মোড় থেকে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাছারীবাড়ি হয়ে কাশির হাটখোলা খেয়াঘাট পর্যন্ত সওজের ৮ কিলোমিটার সড়কটির পিচ উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও গর্তে বালু-কাদা জমে ভরাট হয়ে গেছে। যানবাহন চালকরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বালু-কাদায় ভরা এসব গর্তে চাকা পড়ে গাড়ি আটকে পড়ছে, আবার কখনো উল্টে যাচ্ছে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মালামাল সরিয়ে গর্ত থেকে গাড়ি তুলতে হচ্ছে।

বেদকাশী গ্রামের ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে অসুস্থ এক ব্যক্তিকে নিয়ে কয়রা হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। অসাবধানতাবশত হঠাৎ করে গর্তে চাকা পড়ে ভ্যানটি উল্টে যায়। এতে ওই রোগীসহ আমি আহত হই।

ভ্যানচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্তের। প্রায়ই ভ্যানের চাকা গর্তে পড়ে উল্টে যায়, চাকা বেঁকে যায়। যাত্রীরা পড়ে গিয়ে আঘাত পায়।

পথচারী মনিরুল ইসলাম বলেন, এই সড়কে একসময় ছোট-বড় অনেক যানবাহন চলচল করত। এখন যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় অসুস্থ ও বৃদ্ধদের। 

উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ এই সড়কে চলাচল করে।  আম্ফানের সময় সড়কটির কাজ শুরু হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন বৃষ্টির কারণে সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে যানবাহনসহ পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়রা হতে কাশির হাটখোলা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির সংস্কার জরুরি। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে জনদুর্ভোগ লাঘবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, ৮ কিলোমিটার রাস্তাটির কাজ মোজাহার এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী কাজ চলমান ছিল। কিন্তু আম্ফানের কারণে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীকালে নতুন প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত