বারবার সাবধান করা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরকে মোটেই সহজভাবে নেয়নি চীন। ন্যান্সির সফরের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ান ঘিরে সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। চীন এই মহড়াকে সামরিক অভিযানও বলছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীন ‘টার্গেটেড সামিরক অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উইউ কিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং তারা সামরিক অভিযানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা তাইওয়ান ঘিরে সামরিক অভিযান চালাব। চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষা, তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার নামে আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বহিরাগত শক্তির অযাচিত নাক গলানোর জবাব হিসেবে পরিচালিত হবে এ অভিযান’।
মঙ্গলবার রাতে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে পৌঁছান ন্যান্সি পেলাসি। ১৯৯৭ সালের পর এটি কোনো মার্কিন শীর্ষ রাজনীতিকের তাইওয়ান সফর। পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ সফর করতে সোমবার ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন পেলোসি। এই সফরে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান সফরের কথা রয়েছে।
তবে তিনি ওয়াশিংটন ছাড়ার আগেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে চাউর হয়ে যায়- চলতি এ সফরে তাইওয়ানেও যাবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ান সরকারের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ানে আসতে পারেন- আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর সোমবারই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দেয় চীনের সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান সোমবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যদি পেলোসি সত্যিই তাইওয়ান সফরে আসেন, তাহলে তার পরিণতি খুবই গুরুতর হবে।
চীনের সেনাবাহিনী এক্ষেত্রে ‘চুপচাপ অলসভাবে বসে থাকবে না’ বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লিজিয়ান।
শেষ পর্যন্ত চীনের হুঁশিয়ারিকে আমলে না নিয়ে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টার দিকে তাইওয়ানে যান ন্যান্সি। তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ নিজে উপস্থিত থেকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান ন্যান্সি পেলোসিকে।
ন্যান্সি তাইওয়ানে পৌঁছানোর কিছু সময় পরই তাইওয়ান ঘিরে সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা দেয় চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে রবিবারের মধ্যে তাইওয়ানের চারপাশে এই সামরিক মহড়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে চীন। তবে এর আগেই অবশ্য তাইওয়ান ছাড়বেন ন্যান্সি পেলোসি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যান্সি পেলোসির সফরের প্রধান প্রতিক্রিয়া হিসেবে তাইওয়ানের চারপাশের অবস্থানগুলোতে সামরিক মহড়া চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বেইজিং। বড় মাপের এই মহড়ায় সরাসরি গোলাবর্ষণের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আর চীনের এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা করেছে ভূখণ্ডটির সরকার। তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী বলেছে, এই ধরনের মহড়া ‘তাইওয়ানের আঞ্চলিক স্থান আক্রমণ’ এবং ‘তাইওয়ানের আকাশ ও সমুদ্র অবরোধের সমান’।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘তাইওয়ানের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এমন যেকোনো পদক্ষেপ প্রতিহত করবে’ তাদের সামরিক বাহিনী।
