প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ এবং দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের পড়াশোনা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার তিনটি উপজেলায় ৩টি ছাত্রাবাস নির্মাণের দশ বছরেও সেগুলো চালু করা হয়নি। জনবল নিয়োগ ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়াসহ দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ তা বুঝে না নেওয়ায় সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকার ছাত্রাবাস ভবন কোনো কাজে আসছে না। এগুলো পরিচালনার দায়িত্ব কে নেবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি, মানিকছড়ি ও লক্ষীছড়িতে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়। তাই খুব আশায় বুক বেঁধেছিল দূর পাহাড়ের শিশুরা। ছাত্রাবাসে থেকে লেখাপড়া করে উন্নতির স্বপ্নে বিভোর ছিল ওইসব এলাকার শিশুরা। কিন্তু নির্মাণের দশ বছর পরও ছাত্রাবাসটি চালু করার উদ্যোগ নেই। শিশুরা শিগগিরই এসব ছাত্রাবাস চালুর দাবি জানিয়েছে। অভিভাবকরাও প্রত্যাশা করছেন প্রশাসন এটি চালু করবে।
প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়লাগোয়া তিনতলা ছাত্রাবাসে থাকতে পারবে ৮০ জন শিক্ষার্থী। উদ্দেশ্য ছিল, এগুলো চালু হলে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা সুবিধা বঞ্চিত দুর্গম পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীরা আবাসনের সুবিধা পাবে। এতে দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার হার অনেকাংশে কমে যাবে। কিন্তু গত দশ বছরেও ছাত্রাবাসগুলো চালু না হওয়ায় ক্রমশ নষ্ট হয়ে পড়ছে চেয়ার, টেবিল, খাটসহ ভবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম। জনবল কাঠামো অর্থবরাদ্দ আর নিয়োগ নির্দেশনার অভাবে চালু হচ্ছে না ছাত্রাবাস তিনটি। এসবের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েও কাটেনি অনিশ্চয়তা।
এদিকে ইতিমধ্যে ধসে পড়েছে পানছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের পেছনের দেয়ালের একাংশ, ভবনটিও আছে ঝুঁকিতে। পানছড়ির স্থানীয় জয়নাথ দেব ও ফাতেমা বেগম জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রাণহানির মতো ঘটনা না ঘটার আগে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াছমিন জানান, ২০১০-২০১১ সালে পানছড়ি এলাকার নির্মিত ছাত্রাবাস ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, ঢালক দেয়ালের কিছু অংশ ইতিমধ্যে ধসে পড়েছে। তিনি এ ব্যাপারে লিখিতভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জানিয়েছেন। তিনি আশা করছেন ছাত্রাবাসগুলো চালুর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত পেয়ে যাবেন। যেহেতু চালু হয়নি সেখানে কেউ অবস্থান করছে না তাই সিদ্ধান্ত পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।
প্রসঙ্গত, প্রায় ২ কোটি টাকায় ছাত্রাবাসগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১২ সালের মার্চে। সময়মতো এলজিইডিইকে কাজ বুঝিয়ে দেন ঠিকাদাররা। কিন্তু এতদিনেও আবাসন ব্যবস্থাপনায় ছাত্রাবাসের জন্য ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে একজনও নিয়োগ করা হয়নি।
