দেশ ছাড়ছেন লঙ্কান তরুণরা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২২, ১০:৩৫ পিএম

দেশে অর্থনৈতিক অবস্থা বিপর্যস্ত। শিগগিরই এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে, এমন কোনো আশা দেখছেন না শ্রীলঙ্কার তরুণরা। অনেকেই এই পরিস্থিতি থেকে পালাতে অন্য কোনো দেশে চাকরি খোঁজার চেষ্টা করছেন। পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিনই নতুন আবেদনকারীদের দীর্ঘ সারি। বাত্তারামুল্লার অভিবাসন বিভাগের অফিসটিতেও প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি মানুষ আবেদন করছেন। 

স্বাধীনতা অর্জনের পর শ্রীলঙ্কা এ যাবৎকালের সবচেয়ে শোচনীয় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। সেই সংকটের ধাক্কায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনও পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে। একসময় শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি জাতিগোষ্ঠীর কাছে বীর নায়ক হয়ে ওঠা মাহিন্দা রাজাপাকসের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে তার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসেকেও। কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা শেষে গত আগস্ট মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। আশা করা হচ্ছিল, পশ্চিমা দাতা সংস্থার সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া থাকা রনিল তাদের সহায়তায় দেশকে সংকটের থেকে উত্তরণের চেষ্টা করবেন। তবে শুরুতেই এক হোঁচট খেলেন তিনি। গত শুক্রবার বিশ্বব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে নতুন করে কোনো ঋণ দেবে না। ওয়াশিংটনভিত্তিক বৈশ্বিক এ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ধসে পড়া অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে দেউলিয়া (ঋণখেলাপি) শ্রীলঙ্কা যদি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার পদক্ষেপ না নেয় তাহলে ঋণ দেওয়া হবে না। তবে বেল আউটের (অর্থনৈতিক পুনর্গঠন) জন্য আরেক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সরকারের আলোচনা চলছে। তবে আইএমএফ থেকে ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘ। ঋণ পেতে কয়েক মাস এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে। এর সঙ্গে অবশ্য অর্থনৈতিক সংস্কারের বেশ কিছু শর্ত মানতে হতে পারে শ্রীলঙ্কাকে। এরপরেও বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী লঙ্কান সরকার। তবে দেশটির সাধারণ মানুষের অনেকেই সেটা মনে করছেন না। ইতিমধ্যে তাদের বড় একটা অংশ ভারতের তামিলনাড়–তে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া বিশ্বের নানা দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে অনেকে। লঙ্কান সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য, তরুণরা বিশেষ করে যারা চাকরি করার উপযোগী তারা দেশে না চেষ্টা করে বিদেশে চাকরির চেষ্টা করছেন। অনেকের সুযোগও হচ্ছে। লঙ্কান বিশেষজ্ঞারা বিষয়টিকে দুই ভাবে দেখছেন। এক পক্ষ বলছেন, দেশের জনশক্তি ও মেধা পাচার হয়ে গেলে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আরও কঠিন হবে শ্রীলঙ্কার জন্য। দক্ষ লোকবলের অভাব ধাক্কাকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। তবে আরেক পক্ষ বলছে, দেশের বাইরে গিয়ে যদি তারা রেমিট্যান্স পাঠাতে পারে তাতেও গতি পাবে দেশের অর্থনীতি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত