খুলনা-যশোর অঞ্চলে ১৭১ রেলগেটের ৯৮টি অরক্ষিত

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ১২:২২ এএম

খুলনা-যশোর অঞ্চলে বৈধ ও অবৈধ (অনুমোদনহীন) রেলগেটগুলোর মধ্যে অর্ধেকের বেশি অরক্ষিত। অবৈধগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই গেট কিংবা গেটম্যান নেই। ফলে দুর্ঘটনার শঙ্কা অনেক বেশি। এসব অবৈধ গেট বন্ধ কিংবা নিজস্ব তদারকিতে আনার উদ্যোগও নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বৈধগুলোতে গেট থাকলেও অনেক জায়গায় গেটম্যান নেই। আবার গেটম্যান থাকলেও যথাযথ দায়িত্ব পালনে গাফিলতি দেখা গেছে। ফলে খেয়াল-খুশিমতো চলাচল করছে পথচারীরা। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

খুলনা-যশোর অঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে রেলগেট আছে মোট ১৭১টি। এর মধ্যে বৈধ ৭৩টি আর অবৈধ ৮৮টি। অবৈধ সবগুলোই অরক্ষিত। আর বৈধগুলোর মধ্যে ১০টি রেলগেটে গেটম্যান নেই। সব মিলিয়ে বৈধ-অবৈধ ৯৮টি রেলগেটই অরক্ষিত।

সরেজমিনে খুলনা নগরীর মুজগুন্নি ও খালিশপুর এলাকার সংযোগস্থলের অবৈধ রেলগেটটিতে পথচারীদের চলাচল করতে দেখা গেছে। চলাচলকারীদের সতর্ক করার জন্য একটি সমাজ সেবামূলক সংগঠনের ব্যানার সাঁটানো রয়েছে সেখানে। হেঁটে এই ক্রসিং পার হয়ে খুলনা-যশোর রোডে যাওয়া সহজ হওয়ায় মানুষ এখান দিয়ে পার হয়। কিন্তু গেট বা গেটম্যান না থাকায় প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। পাশের মুদি দোকানদার সেলিম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে এখানে বিএল কলেজের একজন ছাত্র মারা গেছেন। তার কয়েক মাস আগে এখান থেকে এক গজ দূরে এক মহিলা ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন।’

নগরীর মুজগুন্নি দিঘিরপাড় এলাকার বৈধ রেলগেটে দুপুরে দেখা গেছে, গেটম্যানের কক্ষ তালাবদ্ধ। বেশ কিছুক্ষণ পর গেটম্যান আসেন। তার দাবি, ট্রেন স্টেশন থেকে ছাড়লে তাদের মোবাইল ফোনে জানানো হয়। তখন তারা গেটে চলে আসেন।

বেলা ২টায় দৌলতপুর বাজারের বৈধ রেলগেটে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে গেটম্যান থাকলেও ২০ মিনিটের মতো অবস্থান করলেও তার দেখা মেলেনি।

দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখানকার রেলগেটগুলো অনেকটা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। যখন যার খুশি তখন সে এসে গেট দেয়। অনেক সময় গেট দেয়ও না। মানুষকে সাবধানে চলতে হয়।’

সরকারি বি এল কলেজের সামনেও একটি অবৈধ রেলগেট রয়েছে। কলেজে ৪০ হাজারের ওপরে শিক্ষার্থী। প্রতিদিন এসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এই ক্রসিং দিয়ে কলেজে আসা-যাওয়া করেন। কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তুহিন বলেন, ‘ট্রেনচালকরা কলেজগেট পার হওয়ার সময় কোনো হর্ন দেন না। আর দ্রুত বেগ তো থাকেই। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে অনেক।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী কুদরত-ই-খোদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রেল খাত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত। খুলনা-যশোর অঞ্চলে যেসব গেটম্যান রয়েছেন, তাদের চরম অবহেলা রয়েছে। তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন না। অবৈধ গেটগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সেগুলো রেল কর্তৃপক্ষকে বন্ধ করে দিতে হবে অথবা গেট দিতে হবে। রেল কর্তৃপক্ষ এসবের দায় এড়াতে পারে না।’

গেটম্যানদের গাফিলতির বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ওলিউল হক বলেন, ‘স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার সময় ও ঢোকার সময় গেটম্যানদের মোবাইল ফোনে সতর্ক করা হয়। সব সময় মানুষ কর্মস্থলে থাকতে পারে না। হয়তো আশপাশে ছিল। যেগুলোতে গেটম্যান নেই, সেগুলোতে নিয়োগের জন্য উচ্চপর্যায়ে চাহিদা দেওয়া হয়েছে।’

অবৈধ গেটগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অবৈধ গেটগুলো ব্যবহারের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে। এগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত