দলের নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। আপনাদের এ মুহূর্তে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। নতুন নির্বাচন দিয়ে সংসদ ও সরকার গঠন করতে হবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জ¦ালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং ও সব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন।
সকাল ১০টা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ফকিরাপুল বাজার থেকে কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড় এবং আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা যায়। সমাবেশের কারণে সকাল থেকে কাকরাইল, বিজয়নগর, শান্তিনগর, ফকিরাপুল ও আশপাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকা দিয়ে যাতায়াতে মানুষের কষ্ট হয়। নয় মাস পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করল বিএনপি।
বিএনপির সমাবেশস্থলের আকাশে দুটি ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। নেতারা বলেন, ‘সমাবেশে নজরদারির জন্য সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ ড্রোন উড়িয়েছে।’ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিপুলসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য জলকামান, প্রিজন ভ্যান নিয়ে কাকরাইলে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের সামনে অবস্থান নেয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘যখন যুবক ছিলাম তখন স্বাধীনতার যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলাম। আমান উল্লাহ আমানরা যখন যুবক ছিলেন তারা স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকে যারা ছাত্র ও যুবক তাদের জেগে উঠতে হবে। দেশকে স্বাধীন করতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘লড়াই শুরু হয়ে গেছে। এ লড়াই বেঁচে থাকার লড়াই। এ লড়াই শুধু বিএনপির নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অংশ নিয়ে হারানো সব ধরনের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। সবাইকে অংশ নিতে হবে। রাজপথে লড়াই করতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু চাকরি দেননি। শুধুমাত্র দলীয় লোকদের চাকরি দিয়েছেন। বাকি বেকার যুবকদের অনেকে এখন পাঠাও, উবারে মোটরসাইকেল চালায়। দলীয় ছেলেরা অনেকে রিকশা চালায়। বিনামূল্যে সার দেওয়ার কথা বললেও তা দেননি বরং দাম বাড়িয়েছেন। সর্বশেষ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কৃষকরা বেকায়দায় পড়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে সেদিন থেকেই রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করা হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠানকে সরকার পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে।’ তিনি জানান, ‘আগামীকাল (আজ) উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ আছে।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
