খরা সামলাতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটাচ্ছে চীন

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১১:০০ পিএম

মারাত্মক খরা ও রেকর্ড ভাঙা তাপদাহের পুড়ছে চীনের মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। এশিয়ার দীর্ঘতম জলপথ ইয়াংজি নদীর পানি এখন নেমে গেছে রেকর্ড পর্যায়ে। নদীর কিছু অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেকেরও কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। জলবিদ্যুতের জন্য বানানো জলাধারগুলোর পানি অর্ধেকের মতো নেমে গেছে। এদিকে গরমের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালানো বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপের মধ্যে পড়েছে কোম্পানিগুলো। এই অবস্থায় মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি ঝরানোর চেষ্টা করছে চীন।

চীনের জাতীয় জলবায়ু কেন্দ্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, টানা দুই মাস ধরে তাপপ্রবাহ বইছে চীনে। এত দীর্ঘ সময় তাপপ্রবাহের রেকর্ড আর সে দেশে নেই। তাই ইয়াংজি নদীর আশপাশের খরায় আক্রান্ত প্রদেশগুলো বৃষ্টিপাতের ঘাটতি মোকাবিলায় ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টা করছে। হুবেইসহ কিছুসংখ্যক প্রদেশে রকেটের মাধ্যমে আকাশে রাসায়নিক পদার্থ ছিটানো হচ্ছে।

ক্লাউড সিডিংয়ের মাধ্যমে মূলত আকাশে বৃষ্টির জন্য উপযুক্ত না হওয়া মেঘের ওপরে ড্রাই আইস বা সিলভার আয়োডাইডের মতো রাসায়নিক বিমান বা রকেটের মাধ্যমে ছিটানো হয়। এরপর মেঘ ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি হয়ে মাটিতে ঝরে। কিন্তু চীনে তাপপ্রবাহের মধ্যে কিছু এলাকায় মেঘের ছিটেফোঁটাও নেই। ফলে সেসব এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টিও ঝরানো যাচ্ছে না।

সিচুয়ান ডেইলির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সিচুয়ান ও প্রতিবেশী প্রদেশগুলোতে ইতিমধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটে সিচুয়ান কর্র্তৃপক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের মাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সম্ভব হলে শ্রমিকদের লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটে লাখ লাখ মানুষকে অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। তাপপ্রবাহ এলাকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর অর্ধেক পানি নেমে যাওয়ায় উৎপাদনে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। পৃথিবীতে বর্তমানে যত পরিমাণে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো হয় তার অধিকাংশই করে থাকে চীন। তবে অতিরিক্ত ক্লাউড সিডিং করে চীন আগেই বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে ফেলায় একদিকে যেমন বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে শীতল মেঘের সারি অন্য দেশের আকাশে ঢোকার আগেই চীন সেগুলো নিঃশেষ করে ফেলছে বলে অভিযোগ আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত