বিএনপি গ্রেনেড হামলার দায়দায়িত্ব কখনো অস্বীকার করেনি

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২২, ১০:২৩ এএম

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ জননেতা মতিয়া চৌধুরী দেশের অন্যতম সফল কৃষিমন্ত্রী। ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তিনি। ঊনসত্তরের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের এক উজ্জ্বল নাম মতিয়া চৌধুরী। রাজনৈতিক জীবন নিয়ে লেখা তার বইয়ের নাম‘দেয়াল দিয়ে ঘেরা বই’। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দিনেও তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সভাস্থলে ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ভয়াবহ এই রাজনৈতিক সন্ত্রাস নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন ‘অগ্নিকন্যা’ খ্যাত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মতিয়া চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক পাভেল হায়দার চৌধুরী

দেশ রূপান্তর : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৮ বছর বা দেড় যুগ পূর্ণ হচ্ছে এবার। দেড় যুগ পেরিয়ে এই হামলাকে কীভাবে স্মরণ করছেন?

মতিয়া চৌধুরী : আজ সেই বিভীষিকাময় রক্তাক্ত ২১ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন। একটি নারকীয় সন্ত্রাসী হামলার ১৮তম বার্ষিকী। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের এই দিনে ঢাকায় আওয়ামী লীগের আয়োজনে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোটের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের প্রতিবাদে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে চালানো হয়েছিল এই নজিরবিহীন হত্যাযজ্ঞ। গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হিংসার দানবীয় সন্ত্রাস আক্রান্ত করেছিল শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে। এতে আক্রান্ত হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। হামলার ধরন ও লক্ষ্যস্থল থেকে এটা স্পষ্ট যে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করাই ছিল ওই গ্রেনেড হামলা ও গুলিবর্ষণের উদ্দেশ্য।

দেশ রূপান্তর : সেদিনের ওই হামলার কথা, ঘটনাস্থলের কথা জানতে চাই আপনার কাছে।

মতিয়া চৌধুরী : সবই স্পষ্ট মনে আছে। ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সড়কের একপাশে ট্রাকের ওপর মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার জন্য তখনকার অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে মিছিল সহকারে হাজার হাজার নেতাকর্মী আসতে শুরু করল। মঞ্চে কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতারা উপস্থিত হন। ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ হলেও ২১ আগস্টের ওই দিন বক্তৃতার চেয়ে মিছিলটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। চলছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য। বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে মিছিলে অংশ নেব বলে ট্রাকমঞ্চ থেকে নেমে (প্রয়াত) আইভী রহমানের (আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক) সঙ্গে গিয়ে দাঁড়াই। তখন আইভী আমার হাত ধরে বলল, আজ আপনি মেয়েদের সঙ্গে মিছিলে যাবেন। আমি কিছু না বলে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে মিছিল ধরতে সোনালী ব্যাংকের কাছে গিয়ে দাঁড়াব বলে ভাবছি। আমি জানি আগের একটি দুর্ঘটনায় আইভীর পায়ে ফ্র্যাকচার আছে, আইভীর জন্য মিছিলে হাঁটা কষ্টকর হবে। কিন্তু তখন তো আর জানি না যে, সামনে এরকম জম অপেক্ষা করছিল সবার জন্য।

দেশ রূপান্তর : এরপর কী হয়েছিল। আপনারা কি তখন মিছিল শুরু করতে পেরেছিলেন?

মতিয়া চৌধুরী : না। মিছিলে যাব এটা ঠিক আছে। কিন্তু মিটিং যখন শেষ হয়ে আসছে তখন আমি বললাম যে, ‘আইভি আমি তো মিছিলে যাব কিন্তু তোমাকে খুব স্পিডে হাঁটতে হবে।’ আমি আবার বললাম যে, ‘মিছিল শুরু হওয়ার আগে তোমাকে সরে আসতে হবে। তুমি তো এভাবে হাঁটতে পারবে না।’ এই বলে আমি সোনালী ব্যাংকের কাছে যাব বলে প্রস্তুতি নিয়েছি। এই সময়, মানে কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছেছি এমন সময় পুচ পুচ করে কয়েকটা শব্দ! মনে হয়েছে ককটেলের শব্দ।

দেশ রূপান্তর : তখনই কি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটল?

মতিয়া চৌধুরী : গ্রেনেডের যে শব্দ, সেই শব্দের সঙ্গে আগে তো কোনোদিন ওইভাবে পরিচিত ছিলাম না। আর মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ট্রেনিং নিয়েছিলাম সেটাও তো অনেক বছর কেটে গেল। তো প্রথমে ককটেল ফোটার মতো চার পাঁচটা শব্দ হলো। তাও আমি সামনের দিকে এগুতে গেলাম। তখন এক লোক আমাকে পেছন থেকে হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিল, টান দিয়ে নিয়ে গেল, হয়তো কোনো কর্মী হবে আমাদের। বলল আপনি কোথায় যাচ্ছেন? আমি চেয়েছিলাম যেদিক থেকে শব্দ আসছে সেদিকে যাব। তারপর যাই হোক, নেত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে তারা গ্রেনেড মারে, গুলিও করে।

দেশ রূপান্তর : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তখন তো ট্রাকের ওপর বানানো মঞ্চে। সেসময় তিনি কীভাবে রক্ষা পেলেন? আপনি কতটা দেখেছিলেন বা কী মনে আছে? 

মতিয়া চৌধুরী : নিরাপত্তারক্ষী আর দলীয় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে পেরেছিল। তারা শেখ হাসিনাকে ঘিরে রেখে মঞ্চ থেকে নামিয়ে গাড়িতে ওঠায়। গাড়িতে ওঠানোর সময়ও কিন্তু গুলি করেছিল। কিন্তু যেহেতু নেত্রীর বুলেট প্রুফ গাড়ি ছিল তাই তিনি বেঁচে যান। আক্রমণকারীরা সেদিন নেত্রীকে একেবারে শেষ করার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিল। গুলিতে নেত্রীর গাড়ির চাকাও পাংচার হয়ে যায়। সেই গাড়ি নিয়েই সুধা সদনের দিকে রওনা হয়ে যান তিনি। এরপর আমরা ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে এলাম। বঙ্গবন্ধু এভিনিউর যে বীভৎস দৃশ্য দেখলাম সেসব এখনো মনে পড়লে মনে হয় এই ধরনের দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা যেন শত্রুরও না হয়। সেদিন গ্রেনেডের আঘাতে আইভী রহমানসহ মোট ২৩  জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান।

দেশ রূপান্তর : আপনি বলছিলেন যে আইভী রহমানের পায়ে আগের চোট থাকায় তার জোরে হাঁটতে কষ্ট হতো। সেদিনের কথা আর কী মনে পড়ে?

মতিয়া চৌধুরী : হুম্ম, মিছিলের কথা বলছিলাম। এমনিতে আইভি কিন্তু খুব পরিপাটিভাবে চলত, তাদের বাসাও খুব পরিপাটি ছিল, খুব গোছানোভাবে চলত। সেই আইভীর শরীর রক্তে মাখা হয়ে পড়ে আছে, চোখগুলো যেন বের হয়ে আসছে। এই দৃশ্য মনে পড়লে কোনোকিছুই ভালো লাগে না। এটা নিশ্চিত যে তারা নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) একেবারে শেষ করার জন্যই এসেছিল এবং তারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই। গ্রেনেড হামলার ধরন দেখে বোঝাই যায় যারা এই হামলা করেছে তারা মানুষ মারা, বোমা বা গুলি চালানোতে দক্ষ ছিল। আক্রমণকারীরা সব জায়গাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছদ্মবেশে ছিল। এক কথায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সব জায়গাতেই তারা ছদ্মবেশে ছিল।

দেশ রূপান্তর : একটা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করার জন্য এমন ভয়াবহ সন্ত্রাসের দৃষ্টান্ত সারা বিশ্বেই বিরল। আপনার কি মনে হয় এই গ্রেনেড হামলার নেপথ্য কারণ কী ছিল?

মতিয়া চৌধুরী : আক্রমণকারীরা চেয়েছিল আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে শেষ করে আওয়ামী লীগকেই শেষ করে দিতে। সেদিনের হামলায় এটাই তাদের বার্তা ছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মম হত্যার পর যিনি এসে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিলেন বা হাল ধরলেন তাকেই তারা শেষ করে দিতে চেয়েছিল। যেমন পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরপরই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল, তেমনি সেবার আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্বকে হত্যা করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। কারণ তারা দেখেছে ১৯৭৫ সালের জঘন্যতম হত্যাকান্ডের পরও আওয়ামী লীগ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেশের গতিমুখ আবার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে নিয়ে আবার ক্ষমতায় চলে এসেছে। তাই আর যাতে আওয়ামী লীগ দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবার গড়ে তুলতে না পারে তাই তারা এমন নৃশংস হামলা চালিয়েছে।

দেশ রূপান্তর : সেদিন হামলার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তো সুধা সদনে গেলেন। সেখানকার পরিস্থিতির কথা বলুন।

মতিয়া চৌধুরী : সেদিন খবর পেয়েই অসংখ্য মানুষ সুধা সদনে ভিড় করে। তাদের ভেতরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, প্রবল জানার আগ্রহ নেত্রী অক্ষত আছে কি না। সুস্থ আছে কি না। আওয়ামী লীগ কর্মীরা তাদের সমস্ত আবেগ ও উৎকণ্ঠা নিয়েই সুধা সদনে এসেছিল। ওইখানে গিয়ে দেখেছি নেত্রীর চেহারায় তখন আর কোনো আতঙ্ক ছিল না। নিজের এত বড় বিপদেও শেখ হাসিনা দেখিয়েছেন কর্তব্যপরায়ণতা। তিনি নেতাকর্মীদের মেডিকেলে যেতে বললেন। মেডিকেলে গিয়ে আহত-নিহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর রাখতে। রক্ত দিতে বলেছিলেন যাদের রক্তের প্রয়োজন ছিল। একজন অসাধারণ নেতা যা করেন সেদিনও শেখ হাসিনা তাই করেছেন। এত বড় বিপদের দিনেও উনি নিজের কথা ভাবেননি।

দেশ রূপান্তর : আপনার কি মনে হয় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মতো এমন ভয়াবহ আক্রোশ হামলাকারীরা কেন দেখাল?

মতিয়া চৌধুরী : কারণ আওয়ামী লীগ তো নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) কেন্দ্র করেই। আওয়ামী লীগের দলটা হলো বঙ্গবন্ধু বা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের যারা দায়িত্ব নেয় তাদের ঘিরেই আওয়ামী লীগ সঞ্চারিত হয়। এর বাইরে অন্য নেতৃত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ আজ এই পর্যায়ে আসত কি না সন্দেহ আছে। তবে অন্য নেতাদের অবদানও আমি খাটো করে দেখছি না। আমি বলতে চাইছি এই দলের নেতৃত্ব বাছাই করার ক্ষেত্রে দলের কর্মীরা ও দেশের জনগণ ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই দলে নেত্রী শেখ হাসিনার জায়গা কেবল শেখ হাসিনাই একমাত্র পূরণ করতে পারেন। এটা অন্যদের দিয়ে হবে না। ঘাতকরাও জানত শেখ হাসিনাই আওয়ামী লীগের ভরসার নাম। 

দেশ রূপান্তর : আদালতের সাক্ষ্য-প্রমাণে বেরিয়ে এসেছে যে ২১ আগস্টের হামলা চালানো হয়েছিল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

মতিয়া চৌধুরী : গ্রেনেড হামলা ও এই হত্যার পরিকল্পনা তারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাতেই  করেছে। তারাই বিভিন্ন টিমে ভাগ হয়ে আলামত নষ্ট করার জন্য লাঠিচার্জ করা, পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়া ইত্যাদি করেছে। এই হামলায় নেত্রীর যে দেহরক্ষী ছিল তাকেও তারা মেরে ফেলেছিল। কতটা নির্মম, নৃশংস, কঠিন এবং জঘন্য সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছিল। হত্যা, হত্যা এবং আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করা ছাড়া তাদের চিন্তায় আর কিছুই ছিল না। আসলে বিএনপি-জামায়াতের যারা এই গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত, তারা এই দেশকে নামে বাংলাদেশ বললেও কাজে কিন্তু তারা আরেকটা পাকিস্তানই বানাতে চায়।

বিএনপি নিয়ে মন্তব্য আর কী করব? বিএনপি তো গ্রেনেড হামলার দায়দায়িত্ব কখনো অস্বীকার করেনি। বরং ওই দলের চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন ওনাকে (শেখ হাসিনা) মারতে যাবে কে? পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়া গ্রেনেড হামলা নিয়ে উপহাস-ব্যঙ্গোক্তি, কটাক্ষ-বিদ্রুপ করেছেন। ফলে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে যে তারা জড়িত এই হামলার পরিকল্পনা যে তাদেরই চিন্তা বা তাদেরই কর্মকান্ড এটা কি আর এখনো সবিস্তারে ব্যাখ্যা বা বর্ণনা দিতে হবে? তবে সত্য, সত্যই। এই সত্য মানুষের কাছে অলরেডি ধরা দিয়েছে এবং আগামীতে আরও ধরা দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত