এক পায়ে লাফিয়ে প্রতিদিন দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করা সুমাইয়াকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি।
রোববার (২১ আগস্ট) দৈনিক দেশ রূপান্তরের শেষের পাতায় ‘এক পায়ে লাফিয়ে ২ কিমি দূরের স্কুলে যায় সুমাইয়া’ সহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স ও অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারিত হয়। সংবাদটি দেখে তাৎক্ষণিক সুমাইয়ার সকল ধরনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। এছাড়াও স্কুলে যাতায়াতের জন্য একটি অত্যাধুনিক হুইল চেয়ার প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।
হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি জানান, মাত্র ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে কি পরিমাণে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ থাকলে এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করতে পারে তা সুমাইয়াকে দেখে বোঝা যায়। তার কষ্টের বিষয়গুলো জানতে পেরে আমি ওকে একটি স্বনিয়ন্ত্রিত হুইল চেয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ঢাকা থেকে অত্যাধুনিক এই হুইল চেয়ারটি তাকে দেওয়া হবে। যাতে করে সে নিজেই পরিচালনা করে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া-আসা করতে পারে। একইসঙ্গে তার পায়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবো।
তিনি বলেন, আমি ১৩ বছর ধরে জাতীয় সংসদ থেকে প্রাপ্ত ভাতার সম্পূর্ণ অর্থ ব্যয় করি গরিব-মেধাবীদের পড়ালেখায়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে সম্মানীর সেই অর্থে। আমরা ৫ ভাইবোন প্রতি বছরই পড়ালেখার জন্য ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করি। অভাবের কারণে বা অর্থের অভাবে যাতে করে কোন শিক্ষার্থী ঝড়ে না পড়ে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। কে জানে হয়তো এদেরই মধ্যে এমন কেউ আছে যারা আগামী দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিবেন।
জানা গেছে, চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের আলীপাড়ার রিকশাচালক শফিকুল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়া দুই বছর বয়সের সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে বাম পা বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। এখন তার বাম পা ডান পায়ের চেয়ে ছোট। যার ফলে তাকে লাফিয়ে লাফিয়ে সব কাজ করতে হয়। সুমাইয়া উত্তর আলোকডিহি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
