জিএসএম ডিভাইসের আওতায় আসছে আনোয়ারার ৩২২ ট্রলার

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২২, ১২:২১ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের সমুদ্রনির্ভর জীবিকায়নকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে। গতকাল রবিবার থেকে উপকূলীয় ইউনিয়ন রায়পুরের ট্রলারগুলোতে গ্লোবাল সিস্টেম মনিটরিং (জিএসএম) ডিভাইস সংযোজনের কাজ শুরু করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। এই ডিভাইসের মাধ্যমে সাগরে দুর্ঘটনা, অবৈধ ট্রলার, জলদস্যুতা, জাটকা নিধনসহ সবকিছু ধরা পড়বে।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্র জানায়, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুর কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন অনেক জেলে। বৈরী আবহাওয়ায় ঝড়ের কবলে পড়ে অনেকে ভেসে গেছেন। সমুদ্রের মাঝে জেলেদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এসব কথা চিন্তা করে মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি জিএসএম ডিভাইসের দাম ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এ উপজেলায় ছোট-বড় মিলে নিবন্ধিত ৯১০টি মাছ ধরার নৌযান আছে। যাচাই-বাছাই করে প্রথম পর্যায়ে ৩২২টি ট্রলারে এই ডিভাইস সংযোজন করা হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ওই ৩২২ ট্রলারে এ ডিভাইস সংযোজনের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিভাইসটির প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার প্রকল্প থেকে বহন করা হবে। তবে প্রকল্প শেষের পর ট্রলার মালিকদের খরচে ডিভাইসটি সচল রাখতে হবে।

উপজেলা মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা মো. হুজ্জাতুল ইসলাম বলেন, এই ডিভাইসের গুণাগুণ অনেক বেশি। তাই ১৩ থেকে ৪০ অশ^শক্তি ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনচালিত ট্রলারগুলোতে এই ডিভাইস সংযোজন করা হচ্ছে। এ ধরনের ৩২২টি ট্রলার চিহ্নিত করা হয়েছে। উপকূল থেকে গভীর সাগরে এটি সমান্তরাল নেটওয়ার্কের কাজ করবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পুরো জলসীমা মনিটর করা হবে। নৌযানগুলো আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে যাবে। বিপদে পড়লে উপকূলে জানাতে পারবে। তখন সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জেলেরা জানান, ডিভাইসটির মাধ্যমে সাগরে অবৈধ কাজে জড়িত নৌযানকে দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হবে। জলদস্যুতা নিরুৎসাহিত হবে। তা ছাড়া কোনো ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়লে তাদের উদ্ধার করাসহ সবকিছু এই ডিভাইসে ধরা পড়বে। এতে জেলেরা নিরাপদ সমুদ্রে মাছ আহরণ করতে পারবেন। পাশাপাশি সাগরে অবৈধ কর্মকা- অনেকটা কমে যাবে।

জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশিদুল হক বলেন, অত্যাধুনিক জিএসএম ডিভাইসটি টেকনিশিয়ান দিয়ে ট্রলারে সংযোজন করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে গভীর সমুদ্রগামী ইঞ্জিনচালিত ট্রলারগুলোতে ডিভাইসটি লাগানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব ট্রলার ডিভাইসের আওতায় আসবে। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় সামুদ্রিক মৎস্য সেক্টরে একটি চেকপোস্ট থাকবে। সেখান থেকে সব ট্রলার মনিটর করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত