জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। গতকাল সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান পাসপোর্ট জমা দেওয়া এবং বিদেশ যেতে পারবেন নাএ শর্তে সম্রাটের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানির দিন ঠিক করেন।
গতকাল সোমবার রাতে বেইল বন্ডে সম্রাটের সইয়ের মাধ্যমে কারামুক্তির প্রক্রিয়া শেষ হয়। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সম্রাটের পাহারায় থাকা কারারক্ষীদের সরিয়ে নেয় কারা কর্র্তৃপক্ষ। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুভাষ কুমার সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাতে হাসপাতালে জামিনের কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি (সম্রাট) বেইল বন্ডে সই করেছেন। এর মধ্য দিয়ে সম্রাটের কারামুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে তিনি হাসপাতালে থেকে কখন ছাড়া পাবেন, সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকরা দেবেন।
সম্রাটের পক্ষে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি করেন এহসানুল হক সমাজী। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।
গত ১১ মে একই আদালত সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেছিল। ওই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর ১৮ মে সম্রাটের জামিন বাতিল করে আদেশ দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদেশে সম্রাটকে সাত দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী সম্রাট ২৪ মে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সম্রাট বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযোগ আছে, তিনি মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকায় ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সেগুলোতে লোক বসিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন। অনেক সময় ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঢাকার গুলশান, ধানমণ্ডি, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট কিনেছেন ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে নামে-বেনামে তার ১ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর সম্রাটকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।
