ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ওয়েবিনার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় নিরাপত্তায় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২২, ১০:৪১ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার নিশ্চিত করার প্রয়োজনে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি। সরকারের কাছে এই দাবি জানিয়ে কমিটির নেতারা বলেছেন, এই কমিশনের মাধ্যমে ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের প্রকৃত চেহারা এবং তাদের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের রাজনীতি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৮ বছর উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনার থেকে এই দাবি জানানো হয়।

এ সময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার উপর নির্মত শাহরিয়ার কবিরের প্রামাণ্যচিত্র ‘জিহাদের প্রতিকৃতি’র সংক্ষিপ্ত ভাষ্য প্রদর্শিত হয়।

ওয়েবিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘২১ আগস্টের কুশীলব কারা ছিলেন তা অবশ্যই খুঁজে বের করে জনসম্মুখে প্রবেশ করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে কাজ করছি এ বিষয়ে। কয়েজনককে চিহ্নিত করেছি। খুব শিগগির এ বিষয়ে আমাদের কাজের একটা আশাব্যঞ্জক সমাধানে পৌঁছাতে পারবো। আমি আমাদের করণীয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ সবার কাছ থেকে সুচিন্তিত মতামত চাইছি। আজকের অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য সুপারিশ আকারে আমার কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। এটি পড়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।'

মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস বলেন, '২১ আগস্টের ঘটনার দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। ঘটনায় আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম। নিরাপত্তার জন্য আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অফিসে গিয়েছিলাম। সে সময় পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে। জানতে পারি হামলায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বেঁচে বেঁচে গেছেন এবং এই ঘটনা নানাভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মানসিকতাও দেখেছি। আমি ’৭১-এ বাংলাদেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখেছি। আমি দেখেছি ভারতে আশ্রয়শিবিরের বাংলাদেশি সব ধর্মের মানুষের কিভাবে কাধে কাধ মিলিয়ে অবস্থান নিয়েছিল।'
 
জুলিয়ান ফ্রান্সিস আরও বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয় হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু এদেশের শাসন পরিচালনা করেছিলেন অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। তিনি ঈদ-এ মিলাদুন্নবীর এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে বলেছিলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। তিনি সব ধর্মের মানুষের অবস্থান নিশ্চিত করেছিরেন। আমি গত কয়েক বছর আগে রোহিঙ্গা শিবির দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখেছি কিভাবে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা মানুষকে কতটা মমতার সঙ্গে আশ্রয় ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেছে। তাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের একটি প্রত্যাবাসন চুক্তি হলেও দেশটি তাদের নাগরিকদের ফেরত নিচ্ছে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার জন্য জাতিসংঘের কার্যকর উদ্যোগ নিলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।’

ইন্সটিটিউট অব কনফ্লিক্ট ল এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যাসহ শীর্ষস্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা করার জন্যই ২১ আগস্টে হামলা করেছে স্বাধীনতাবিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার এই অগ্রযাত্রাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এজন্যই শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি জঙ্গিবাদকে অগ্রসর করছে। জঙ্গিবাদ নির্মূলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।'

ওয়েবিনারে সূচনা বক্তব্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘৪৭ বছর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যারা যে সব কারণে হত্যা করেছিল তারাই নেপথ্যে থেকে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে বার বার হত্যার উদ্যোগ ও ষড়যন্ত্র করেছে এবং এখনও করছে। ঘাতকদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর কন্যা সহ গোটা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করা যে দলের নেতৃত্বে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের মৌলবাদী সহযোগীদের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছিল এবং বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। 

শাহরিয়ার কবির বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হত্যার ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত আছে। আমরাও মনে করি, জাতির পিতার কন্যাদের হত্যা না করা পর্যন্ত বাংলাদেশে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি চলতেই থাকবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে ধর্মের নামে রাজনীতি ও সন্ত্রাস নিষিদ্ধ করতে হবে।
 
এ ছাড়াও ওয়েবিনারে প্রাক্তন আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, ইষ্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক এলাহী, ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস বল, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’র যুগ্ম সম্পাদক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লেখক মারুফ রসুল, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভিন, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় আইন সহায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া এবং নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল যুক্ত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত