দুদিন ধরে খোঁজ নেই এমএলএমের ৬ জনের

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২২, ১১:২৬ পিএম

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানির নামে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের ছয়জনকে দুদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে তাদের পরিবার। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে গত বুধবার রাতে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে কুমারখালীতে। নিখোঁজদের পরিবার ওই ছয়জনের খোঁজে দিশেহারা হয়ে ঘুরছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন কার্যালয়ে। অপরদিকে, টাকা খোয়া যাওয়া পরিবারের লোকজন তাদের টাকা উদ্ধার ও প্রতারকদের শাস্তির দাবিতে ভিড় জমাচ্ছেন থানা এবং ওই সব কার্যালয়ে, করছেন মিষ্টি বিতরণ।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৯৩ জনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এসবিএসএল (সানরাইজ বিজনেস সার্ভিস লিমিটেড) নামে এমএলএম কোম্পানি খুলে ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানার সাজ্জাদ হোসেন রানা, মহেশপুর থানার মহসিন আলী এবং কুমারখালীর পান্টি ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের আল-ইমরান তুষার সাত হাজারের বেশি মানুষের কাছ থেকে অন্তত ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তারা কুমারখালী উপজেলার আইয়ুব আলী (৩৫), মোস্তফা রাশেদ পান্না (৪৭), হাফিজুর রহমান (২৬), হাসান আলী (৩০), হান্নানসহ (৪০) একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে তাদের মাধ্যমে শত শত পরিবারের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় এসব টাকা।

টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর চক্রের অধিকাংশ সদস্য গা ঢাকা দিলেও আইয়ুব, হাসান, হান্নান ও রাসেদ মাস্টার নিজেদের এলাকাতেই আত্মগোপন করে ছিল। এদিকে আল ইমরান তুষার বাবার অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে দেখতে বাড়ি এলে গত বুধবার রাতে তাকেসহ আইয়ুব, রাসেদ, হাফিজ, হাসান ও হান্নানকে প্রশাসনের পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় বলে তাদের পরিবার দাবি করেছে। তবে আগেই ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার আছে চক্রটির মূলহোতা সাজ্জাদ রানা।

কিন্তু পরিবারের লোকজন কুমারখালী থানা, কুষ্টিয়া ডিবি অফিস ও র‌্যাব অফিসের কোথাও নিখোঁজদের খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং কুমারখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। অপরদিকে, এসবিএসএলের  প্রতারক চক্রের সদস্যদের তুলে নেওয়ার সংবাদ শুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দলে দলে কুষ্টিয়া র‌্যাব অফিস ও কুমারখালী থানায় তাদের টাকা ফিরে পাওয়ার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন এবং অনেক এলাকায় মিষ্টি বিতরণের সংবাদ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে নিখোঁজ হাফিজুরের চাচা তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, বুধবার রাত ১১টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন লোক বাড়িতে এসে হাফিজকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যায়।

নিখোঁজ আইয়ুব আলীর স্বজন ও বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার (সদস্য) তারেক আজিজ টিক্কা বলেন, বুধবার রাতে প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে আইয়ুবকে তুলে নিয়ে গেছে।

কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, হেডকোয়ার্টার সূত্রে জানতে পেরেছি, রাতে র‌্যাবের একটি টিম অভিযান চালিয়েছে।

তবে, কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, কুমারখালীতে এ রকম কোনো অভিযান চালানো এবং কাউকে আটকও করা হয়নি।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, বুধবার রাতে ডিবি পুলিশ কোনো অভিযান চালায়নি। জিডির সূত্র ধরে নিখোঁজদের পুলিশ খোঁজাখুঁজি করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত