মুন্সীগঞ্জ-চট্টগ্রামে বিএনপির মিছিলে হামলা, আহত ৭০

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২২, ০২:২২ এএম

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীনগর-দোহার বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ অন্তত ৫০ নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করছে দলটি।

বিএনপির অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। তবে ছাত্রলীগ বলছে, বিএনপি থেকে তাদের শোকমিছিলে হামলা করে ১০-১৫ জনকে আহত করা হয়েছে। এ নিয়ে পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এদিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিএনপির মিছিলের সময় দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে দুই পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে কালিপুর ইউনিয়নের গুনাগুরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গতকাল সকাল থেকে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রীনগর-দোহার বাইপাস এলাকায় জড়ো হন। সকাল ১০টার দিকে তারা মিছিল বের করেন। এ সময় ছাত্রলীগও একটি মিছিল নিয়ে ওই এলাকায় আসে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ বিনা উসকানিতে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ হামলায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম খান, মহিলা দলের নেতা সেলিনা রিনা, উপজেলা যুবদলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, যুবদল নেতা মাসুদ রানা, বিএনপি নেতা মামুন, আবুল মৃধা, মো. রণি, আজিম, বাবুল ব্যাপারী, কাউসার হোসেন, আবুল কালাম, তানভীর হাসান, রোকেয়া বেগমসহ বেশ কয়েকজনকে বেদম মারধর করা হয়।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল করছিলাম। যশুরগাঁও বাইপাস এলাকায় আমাদের মিছিলটি এলে হঠাৎ করে পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের মহিলা নেত্রীসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।’

অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘শ্রীনগর বাইপাস এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা অরাজকতা ও বাস ভাংচুরের চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা বাধা প্রদান করে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে আমাদের কয়েক নেতাকর্মী আহত হয়।’

শ্রীনগর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি ও ছাত্রলীগের একই স্থানে কর্মসূচি ছিল। এতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিএনপি নেতা হাফিজুল ইসলাম খানসহ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

বাঁশখালীতে আহত ২০: বাঁশখালীর সংঘর্ষের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ভোলায় দুই নেতার মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল একটি সমাবেশ আয়োজনের কথা ছিল বাঁশখালী বিএনপির। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশটি ডাকা হয়। পরে সমাবেশ না করে একটি মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বাঁশখালীর পুকুরিয়াসহ কয়েকটি স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ করার কথা ছিল। তবে সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করায় কালিপুর ইউনিয়নের গুনাগুরি এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়ির সামনে থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাঁশখালী সড়কে ওঠার সময় পুলিশ বাধা দেয়। তাদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগান থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে বিএনপির কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। অন্যদিকে ইটপাটকেলের আঘাতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত