প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সানরাইজ বিজনেস সার্ভিস লিমিটেডের (এসবিএসএল) চেয়ারম্যানসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (২৭ আগস্ট) সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ইলিয়াস খান।
প্রতারণার শিকার একজন গ্রাহক বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় কোম্পানির চেয়ারম্যানসহ একাধিক ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, গত ২৬ জুন এসবিএসএল কোম্পানির নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের সংবাদ স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে, প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তারে র্যাব উদ্যোগী হয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া র্যাব-১২, সিপিসি-১ এর একটি আভিযানিক দল র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বেতবাড়িয়া এলাকার জলিল বিশ্বাসের ছেলে হাসান আলী, মহেন্দ্রপুর এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল হান্নান (৪৩), বাঁশগ্রাম এলাকার মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে মোস্তফা রাশেদ পান্না (৪৭), মৃত আলাউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে আইয়ুব আলী (২৮) ও বহলবাড়িয়া এলাকার মৃত আলতাফ শেখের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৮)।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যমতে, কোম্পানির চেয়ারম্যান ঝিনাইদহের শৈলকূপা এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৯), কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ঝিনাইদহের মহেশপুর পদ্মপুকুর এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মহসীন আলী (৩১) ও কোম্পানির ফিন্যান্স ডিরেক্টর কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গোবরা এলাকার তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেনকে (২৮) ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তারা। এসবিএসএল কোম্পানির বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর ও কুমারখালী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া কোম্পানির চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি চেক জালিয়াতির মামলা, ম্যানেজিং ডিরেক্টর মহসিন আলীর বিরুদ্ধে একটি চেক জালিয়াতি ও পাঁচটি স্ট্যাম্প জালিয়াতির মামলা এবং ফিন্যান্স ডিরেক্টর ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি চেক জালিয়াতির মামলা রয়েছে।
