‘দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ কিশোরী মারা গেছে

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২২, ০৯:০২ পিএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ‘দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ স্কুলছাত্রী (১৫) কিটনাশক পানের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে তার মৃত্যু হয়। এর আগে বুধবার রাতে ধর্ষণের ওই ঘটনা ঘটে বলে জানান তার বোন। এরপর শুক্রবার রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে।

ওই কিশোরীর বোন জানান, তাদের বাড়ি ফরিদপুর ভাঙ্গা উপজেলায়। তার বোন নবম শ্রেণিতে পড়ত। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে ছিল তৃতীয়। বুধবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বাইরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যায় সে। তখন আগে থেকেই ওত পেতে থাকা রাব্বীসহ (২৩) আরো দুজন তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। কাউকে বিষয়টি না জানাতে হুঁশিয়ার করে তারা।

তিনি জানান, সেদিন রাত ১২টার দিকে ঘরে ঢোকে আমার বোন। দেরি করে ঘরে আসার কথা জিজ্ঞাসা করলে কিছুই বলে না। শুধু বলে আমি বাঁচব না, মরে যাব। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ সে চিৎকার করে বলে আমার বুক জ্বলে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ফরিদপুরে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বেলা ১২টার দিকে মারা যায়।

স্বজনরা জানান, রাব্বী সম্পর্কে ওই স্কুলছাত্রীর ফুফাতো ভাই। ছয় থেকে সাত মাস আগে রাব্বীর মা রব্বাীর সঙ্গে তার বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিয়েতে রাজি হননি তার মা। এ ক্ষোভেই রাব্বী ও তার বন্ধুরা মিলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে। তার মৃত্যুতে রাব্বীর ফাঁসি চান তারা।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়ারুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর সংবাদ আমরা পেয়েছি। আমরা তার বাসার উদ্দেশ্যে অলরেডি রওনা হয়েছি। শুনেছি তার এক আত্মীয় বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, পরে সে বিষপান করে। ধর্ষণের বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত