চাঁদে মানুষ পাঠানোর অর্ধশতাব্দি পর আবারও চাঁদের বুকে ফেরার কথা ছিল মানুষের। সেই অভিযানের প্রথম পর্যায়ে সোমবার (২৯ আগস্ট) ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আর্টেমিস প্রকল্পের প্রথম রকেটটি উৎক্ষেপণের কথা ছিল। কিন্তু উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে শেষ মুহূর্তে চন্দ্রাভিযান স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টরা আলোচনা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে, ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালের কেনেডি স্পেস সেন্টারে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটটিকে। গন্তব্য পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৩ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাশূন্যের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল আর্টেমিস-ওয়ানের।
আর্টেমিস ১-এর কাজ হবে নভোচারীদের বহনের জন্য তৈরি ওরায়ন ক্যাপসুলটিকে চাঁদের চারদিকে একবার প্রদক্ষিণ করানো। এরপর আর্টেমিস ১ পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এছাড়া বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সময় ওরায়ন অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারবে কিনা সেটি পরীক্ষা করাও এই যাত্রার উদ্দেশ্য।
এই যাত্রায় কোনো মানুষ থাকবে না। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক হলে পরবর্তী মিশনগুলোতে মহাকাশচারীরা যোগ দেবেন।
নাসার এক্সপ্লোরেশন সিস্টেমস ডেভেলপমেন্টের সহযোগী প্রশাসক জিম ফ্রি বলছেন, পর্যালোচনা থেকে আমরা কোনো নেতিবাচক ফলাফল পাইনি। এবং এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো ভিন্নমতও তৈরি হয়নি।
স্পেস ডট কম’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪২ দিনের জন্য মহাশূন্যে যাবে নাসার এ যাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট। যার সাফল্যের পথ ধরেই, ৫ দশকের বেশি সময় পর, আবার চাঁদের বুকে পা রাখবে মানুষ।
