‘এতোদিন তো ঝড়ি (বৃষ্টি) নাই। ভুই (জমি) ফাটি (ফেটে) গেছিল। শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিতে দিতে অবস্থা খুব খারাপ হইছে। যে তেলের দাম খুব একটা সমস্যা হইছে হামার।’
এভাবেই বলছিলেন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের সিতাই ঝাড় এলাকার আমন চাষি আইয়ুব আলী।
তিনি বলেন, সকাল থাকি ঝড়িতে (বৃষ্টিতে) হামার অনেক উপকার হইছে। খেতোত (জমিতে) হাঁটু পানি হইছে। আবাদ নিয়া যে চিন্তা ছিল তা দূর হইছে আজ। আষাঢ় মাস গেইছে বৃষ্টি নাই। শ্রাবণ মাসে টুকটাক একটু জড়ি (বৃষ্টি) হইছে তাদে কোন উপকার হয় নাই। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি আইসি (এসে) ভালোই ঝড়ি (বৃষ্টি) এতে হামারগুলার অনেক উপকার হইল।
একই এলাকার দিনমজুর শফিকুল ইসলাম বলেন, ঝড়ির (বৃষ্টির) জন্য তো আজ কাজোত (কাজে) যাবার পাইলং (পেলাম) না। হোক হামার ক্ষতি হলে হইছে। যারা ধান আবাদ করছে তামারগুলার (তাদের) তো উপকার হইছে ঝড়িত।
টানা ৩-৪ ঘন্টা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার ৯টি উপজেলার রোপা আমন ও সবজি চাষিদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এসেছে। কেননা বৃষ্টির অভাবে রোপা আমন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন এখানকার কৃষকেরা।
এখনো থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় কম বেশি আমন ক্ষেতগুলোতে হাঁটু পানি হওয়ায় দারুণ আনন্দিত এ অঞ্চলের চাষিরা।
বুধবার (৩১ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা আরও ৩-৪ দিন থেমে থেমে অব্যাহত থাকতে পারে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রীড জাত ১২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, উফশী ৯৪ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং স্থানীয়জাত ১২ হাজার ৭০০ হেক্টর।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৫ মেট্রিক টন। এবার ৫ লক্ষ ৮ হাজার ৪৯৩ জন কৃষক আমন চাষে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু ডিজেল এবং ইউরিয়া সারের মূল্যবৃদ্ধিসহ হালচাষে খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভাবনায় দিন কাটছে তাদের।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সবুর হোসেন জানান, কুড়িগ্রামে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টায় ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ রকম বৃষ্টিপাত রংপুর বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী আরও ৩-৪ দিন থেমে থেমে অব্যাহত থাকতে পারে।
