মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চার মিটার চোরকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে সাটুরিয়া থানা চত্ত্বরে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ভাস্কর সাহা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আটকরা হলেন বগুড়া জেলার দুপচাচিয়া থানার শ্রীপুর গ্রামের মো. বকুল হোসেন, একই এলাকার মো. নাজমুল হাসান, সিরাজগঞ্জের মো. কাইয়ুম আলী এবং বগুড়া জেলার মো. মাসুদ রানা।
এর আগে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার বড় ও ছোট ছোট মিল কারখানার বৈদ্যতিক মিটার চুরি যায়। এ সব সংঘবদ্ধ চোর ওই সময় মিটার বোর্ডে বিকাশ নম্বর লিখে যায়। মালিক তাদের চাহিদা মতো টাকা দিলেই মিটার ফেরত দেন। মিটার চুরির পর বিভিন্ন ঝক্কি ঝামেলা এবং ২৫- ৩০ হাজার টাকা লাগে। ঝামেলা এড়াতেই গ্রাহকরা চুরির কথা মত ৫-১০ হাজার টাকা বিকাশে পরিশোধ করে মিটার ফেরত নিয়েছেন।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ভাস্কর সাহা বলেন, সাটুরিয়া থানায় জাহাঙ্গীর আলম গত ২২ আগষ্ট বৈদ্যুতিক মিটার চুরির একটি মামলা দায়ের করেন। বিকাশ নম্বর ধরে প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথমে বিকাশ নম্বরের মালিক সজিব হোসেনকে আটক করে। পরে তার কথা মত ৪ আসামিকে আটক করা হয়।
আাসামিরা আদালতে মিটার চুরির সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের কথা মত বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা ছয় মিটার উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে অধিকতর তদন্ত করার জন্য মাসুদ রানাকে রিমান্ডে আনা হয়েছে।
রিমান্ডে থাকা মো. মাসুদ রানা বলেন, 'আমাদের বিভিন্ন গ্রুপে একাধিক লোক কাজ করি। আমাদের একটি টিম শ্রমিক সেজে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে কাজ করি। কাজ করার সময় আমরা মালিকের সেচ দেওয়া পাম্প, মিল কারখানার খোঁজখবর নিই। পরে রাতের কোনো এক সময় মিটার চুরি করে আশেপাশে রেখে যাই। সেই সাথে মিটার বোর্ডে একটি নম্বর লিখে আসি। ফোন দিলে আমরা আরেকটি গ্রুপের বিকাশ নম্বর দিই যা অন্য জেলায়। বিকাশ করলেই মিটার কোথায় রেখেছি সেটা বলে দিই।
সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, এই চক্র এতো স্মার্টলি কাজ করে। মিটার চুরির সময় মিটার সাথে রাখে না। আবার যে মোবাইল সিম ব্যবহার করে তা গ্রামের কোন বৃদ্ধ মহিলার বায়োমেট্রিক সিম। ফলে বিকাশ নম্বর ও মোবাইল নম্বর রেখে গেলেও তাদের শনাক্ত করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ভাস্কর সাহা বলেন, মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মিটার চুরি হয়েছিল। প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিদের ধরা সম্ভব হয়েছে। সব মিটার চুরির বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে। না পাওয়া মিটার ফেরত দেওয়া এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলবে।
