নারায়ণগঞ্জে পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষে গুলিতে নিহত যুবদল কর্মী শাওন প্রধান (২০) ফতুল্লার এনায়েতনগর এলাকায় একটি কারখানায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত শোভাযাত্রায় যোগ দিতে বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সকালে স্থানীয় যুবদল নেতাদের সঙ্গে নগরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সংঘর্ষ শুরু হলে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে, হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাওন প্রধানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের পূর্ব গোপালনগর এলাকায়। তার মৃত্যুর পর দুপুর থেকে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ডোরাকাটা সাদা রঙের টি-শার্ট ও কালো জিনস পরিহিত শাওন মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন।
শহরের গুলশান সিনেমা হলের সামনে শাওন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার লাশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আসা যুবদলের দুজন কর্মী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের একজন বলেন, ‘ডিআইটি আলী আহাম্মদ চুনকানগর মিলনায়তনের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে আমরা দুই নম্বর রেলগেটের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় সংঘর্ষ শুরু হলে আমরা গুলশান সিনেমা হলের সামনে অবস্থান নেই। সেখানেই একটি গুলি এসে শাওনের বুকের বাম পাশে লাগে। শাওন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্য নেতা-কর্মীরা পালিয়ে যান। পরে তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে আসি।'
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হাসান জানান, নিহত ব্যক্তির বুকের বাম পাশে একটি গুলির চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
শাওনের বড় ভাই ফরহাদ প্রধান জানিয়েছেন, তার ভাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। সকালে স্থানীয় যুবদল নেতাদের ডাকে শাওন শহরে যান। তার কিছুক্ষণ পর তারা জানতে পারেন, শাওন গুলিতে নিহত হয়েছেন।
