পাকিস্তানের বন্যাদুর্গত লাখ লাখ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সীমান্ত দিয়ে খাদ্য আমদানি সহজ করতে দেশটির সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা। তার প্রেক্ষিতেই ভারতের সঙ্গে সীমান্ত কড়াকড়ি শিথিল করার কথা বিবেচনা করেছে সরকার। পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল এক টুইটে এমন কথাই জানিয়েছে।
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী এক টুইটে বলেছেন, বন্যার্তদের ত্রাণের জন্য খাবার সরবরাহের পথ সুগম করতে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত কড়াকড়ি শিথিল করার কথা বিবেচনা করে দেখছে সরকার। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্তের বড় অংশই বন্ধ। কিন্তু পাকিস্তান সরকার এখন বন্যার্তদের জন্য খাবার সরবরাহের পথ সুগম করতে সীমান্তের কড়াকড়ি শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে।’ তবে সরকার পণ্য সরবরাহের শর্তের ভিত্তিতে এবং জোট শরিকদের পাশাপাশি প্রধান স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান ইসমাইল।
ভয়ংকর বন্যায় পাকিস্তানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ডুবে গেছে, আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে কয়েক লাখ মানুষ। গত জুন থেকে কয়েক দফা বন্যায় এখন পর্যন্ত দেশটিতে হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ একে ‘নজিরবিহীন প্রাকৃতিক বিপর্যয়’ বলে বর্ণনা করে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তায় ১৬ কোটি মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহের আবেদন করেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং খাদ্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামের সঙ্গে পাকিস্তানের নড়বড়ে অর্থনীতির কারণে দেশটির অবস্থা আগে থেকেই নাজুক ছিল। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে বর্ষা মৌসুমে অতিভারী বর্ষণ। গত ৩০ বছর ধরে জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাসে পাকিস্তানে গড়ে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে, এ বছর তার থেকে প্রায় ১৯০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এই তিন মাসে পাকিস্তানে ৩৯০ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণের সিন্ধু প্রদেশে। সেখানে গত ৩০ বছরের গড়ের তুলনায় ৪৬৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। অতিভারী বর্ষণের ফলে হড়কা বানে ভেসে গেছে বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্ষেতের ফসল এবং অনেক অবকাঠামো। বন্যায় দেশটির ১৫ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হিসাবে বন্যায় পাকিস্তানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলা হয়েছিল।
