মাদারীপুরের শিবচরে প্রাথমিকের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুদিনের ছুটি নিয়ে মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষক গত পাঁচ মাস ধরে স্পেনে তার স্বামীর কাছে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসের যোগসাজশে নিয়মিত তার বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, শিবচর উপজেলার পূর্ব কাঁচিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোনিয়া আক্তার চলতি বছরের ২৮ মার্চ দুদিনের জন্য স্কুল থেকে ছুটি নেন। এরপর থেকে আর তিনি বিদ্যালয়ে আসেননি। তবে ওই শিক্ষকের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে স্পেনে তার স্বামীর কাছে গিয়েছেন তিনি। শিগগিরই চলে আসবেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিলা বেগম বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক সোনিয়া আক্তার দুদিনের ছুটি নিয়ে গেছেন। এরপর থেকে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাচ্ছি। তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। পরে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি আমাকে জানান, আমি মেডিকেল ছুটি নিয়ে এসেছি। আপনি মেডিকেল ছুটি লিখে রিটার্ন জমা দিয়ে দেন। তখন আমি মেডিকেল ছুটি লিখে দিয়েছি। বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারলাম তিনি স্পেনে আছেন।’
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আটজন শিক্ষকের পদ রয়েছে এ বিদ্যালয়ে। এর মধ্যে কর্মরত ছয়জন। তার ওপর একজন দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর সুষ্ঠু পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ওই শিক্ষকের ক্লাসগুলো অন্যদের নিতে হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সোনিয়া আক্তারের মেডিকেল ছুটির রিটার্ন জমা দেন। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই বেতন ভাউচারে সই করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
তবে এ ব্যাপারে শিবচর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক আমাকে কোনোভাবেই জানাননি যে ওই শিক্ষক দেশের বাইরে বা মেডিকেল ছুটিতে আছেন। আমার কোনো স্বাক্ষরিত কাগজপত্র না থাকায় আমি বেতন বন্ধ করার মতো কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনি।’
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গত চার মাসের বেতন ফেরত এনে চালানোর মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।’
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘ওই শিক্ষককে ইতিমধ্যে শোকজ করা হয়েছে। তার বেতনও বন্ধ করা হয়েছে। আমরা যখন জানতে পেরেছি আমাদের শিক্ষা অফিস থেকে তাদের শোকজ করা হয়েছে। ওই শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ চার জনকে শোকজ করা হয়েছে।’
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি ওই শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে দিয়েছে। আমি টিইও শিবচরের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তিনি বলেছেন বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
