মির্জাপুরে মাতব্বরদের নির্যাতন, এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫১ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য মাতব্বরদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ডিএম সালমান (১৬) নামে এসএসসি পরীক্ষার্থী বিষ পানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ শুক্রবার সকালে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে সালমানের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

সালমান উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কুড়াতলী গ্রামের শামসুল দেওয়ানের ছেলে। তিনি তার মায়ের সঙ্গে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের চুকুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে লেখাপাড়া করতেন। গল্লী জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তার এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, সালমানের বন্ধু চুকুরিয়া গ্রামের আলামীন একই এলাকার শফিকের দোকানে তাকে সঙ্গে নিয়ে বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকা লেনদেন করেন। আলামীন পরে টাকা দেওয়ার কথা বলে গাঢাকা দেন।

গত ৩১ আগস্ট সকালে শফিক সালমানের কাছে টাকা দাবি করেন। এতে সালমান অস্বীকৃতি জানান। ওইদিন বিকেলে শফিক সালমানকে ডেকে এলাকার মাতব্বর সেকেন্দার সিকদারের বাড়িতে নিয়ে যান।

সেখানে সেকেন্দার, সাইফুল, লতিফ, শফিক সালমানকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।

রাতের কোনো এক সময় সালমান ওই এলাকার মামুন তালুকদার নামে এক ব্যক্তিকে মুঠোফোনে কল করে তাকে উদ্ধার করতে বলেন। মামুন রাতেই তাকে উদ্ধার করে তার কাছে রাখেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে সালমান বাড়ি ফিরে ইঁদুর মারার বিষ পান করেন।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে আবার মামুনের সঙ্গে দেখা হলে তিনি বিষ পান করেছেন বলে জানান। পরে তাকে প্রথমে জামুর্কীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে সালমানের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।

সালমানের মামাতো ভাই জামুর্কী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল হোসেন খান বলেন, সদা হাস্যোজ্জ্বল ও বিনয়ী সালমানকে যারা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে তাদের উপযুক্ত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দাবি করছি।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাইদ বলেন, কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে সালমানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত