টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সাত মাস ধরে একঘরে করে রাখার প্রতিবাদে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছে ওই পরিবার। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় সখীপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্য অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রতিবেশী এক নারীর বাড়িঘরে হামলা ও মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সাংসদের জামাতা শেখ ফরিদ ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে ‘মসজিদভিত্তিক সমাজ’ থেকে একঘরে করে রাখেন বলে অভিযোগ করেন অনশনরত মুক্তিযোদ্ধা তোরাব আলী। অনশনে তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও নাতনি অংশ নেন। তোরাব আলী সখীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুজিব কলেজ মোড় এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে মুজিব কলেজ মোড় এলাকার মসজিদভিত্তিক সমাজের সভাপতি শেখ ফরিদ।
মুক্তিযোদ্ধা তোরাব আলীর ভাষ্যমতে, সাত-আট মাস আগে স্থানীয় সাংসদের জামাতা শেখ ফরিদের অনুসারীরা এক নারীর বাড়িতে হামলা করে। ওই নারী প্রতিবেশী হওয়ায় তোরাব আলী এ হামলার প্রতিবাদ করেন। এতে মসজিদের সভাপতি শেখ ফরিদ মুক্তিযোদ্ধার ওপর ক্ষিপ্ত হন। এরপর মুজিব কলেজ মোড় সমাজভিত্তিক মসজিদে ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে একঘরে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সমাজের লোকজন তাদের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ ও তোরাব আলীর দোকান থেকে কোনো মালামাল ক্রয় না করার জন্য সমাজবাসীকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তোরাব আলী আরও জানান, এরপর থেকে সাত মাস ধরে তাকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। কোরবানির ঈদের দিন সামাজিক গোশত বিতরণ থেকেও বঞ্চিত করা হয়। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযোদ্ধার ভাতা না পেলে তাকে না খেয়ে মরতে হতো।
তোরাব আলী বলেন, ‘গত ছয় মাস ধরে সখীপুর থানার ওসি, মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি এমপি মহোদয়ের কাছে গিয়েও এর বিচার পাইনি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হয়েছি।’
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা তোরাব আলী আমার কাছেও এসেছিলেন। বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সঙ্গে, তাই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে মীমাংসা করার জন্য বলে দিয়েছি।’
সখীপুর পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ বলেন, ‘কয়েকবার মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েও পারিনি।’
সখীপুর মুজিব কলেজ মোড় মসজিদভিত্তিক সমাজের সভাপতি শেখ ফরিদ বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা তোরাব আলীকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। তিনিই আমাদের সমাজের ৫০-৬০ জনের নামে “মিথ্যা” মামলা করেছেন। মামলার কারণে সামাজিক সিদ্ধান্তে মাস ছয়েক আগে সমাজের সদস্য থেকে তার নামটি শুধু কাটা হয়েছে। একঘরে করে রাখা হয়নি।’
সখীপুর থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হবে।’
