সালিশে নির্যাতন, এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৩৪ এএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গ্রাম্য মাতব্বররা সালিশে ডেকে নিয়ে নির্যাতন ও অপমান করায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিএম সালমান (১৬) নামে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। পরে সকালে সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ।

সালমান মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কুড়াতলী গ্রামের শামসুল দেওয়ানের ছেলে। সে তার মাসহ একই উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের চুকুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। স্থানীয় গল্লী জনতা উচ্চবিদ্যালয় থেকে তার চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সালমানের মামাতো ভাই উজ্জল হোসেন জানান, সপ্তাহখানেক আগে চুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা বন্ধু আলামীন সালমানকে সঙ্গে নিয়ে একই এলাকার শফিকের দোকান থেকে বিকাশের মাধ্যমে একজনকে কিছু টাকা পাঠায়। আলামীন ওই টাকা পরে দেওয়ার কথা বলে গা-ঢাকা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে শফিক গত বুধবার সকালে সালমানকে ডেকে তার কাছে সেই টাকা দাবি করেন। সালমান তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। শফিক পরে ওইদিন বিকেলে সালমানকে ডেকে এলাকার মাতব্বর সেকেন্দার সিকদারের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সেকেন্দার, খালেক মিয়ার ছেলে সাইফুল, আশক আলীর ছেলে লতিফ, আজিজ তালুকদারের ছেলে শফিক এবং সেকেন্দারের ছেলে মুক্তার সালমানকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতন করে। পরে রাতের কোনো একসময় সালমান ওই এলাকার মামুন তালুকদার নামে এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে কল করে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানায়। মামুন রাতেই তাকে উদ্ধার করে তার কাছে রাখে। তবে নির্যাতনকারীরা সালমানের মোবাইল ফোনটি রেখে দেয়। পরদিন সকাল ৬টার দিকে বাড়ি ফিরে ইঁদুরের বিষপান করে সালমান। এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে আবার মামুন তালুকদারের সঙ্গে দেখা হলে তার খুব খারাপ লাগছে এবং সে বিষপান করেছে বলে জানায়। পরে তাকে প্রথমে জামুর্কী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সেখান থেকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ভোরে সালমানের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

গ্রাম্য মাতব্বরদের আটকাবস্থা থেকে সালমানকে উদ্ধার করা মামুন তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাতে সালমানের ফোন পেয়ে সেকেন্দার সিকদারের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে আমার বাড়িতেই রাখি। ভোরবেলা সে বাড়ি চলে যায়। সকাল ৭টার দিকে তার সঙ্গে আবার দেখা হলে সে বলে, ‘আমার খারাপ লাগছে, আমি বিষ খেয়েছি।’

সালমান ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিল বলে জানান তার মামাতো ভাই জামুর্কী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেন খান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সদা হাস্যোজ্জ্বল, বিনয়ী এবং ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী সালমানকে যারা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে তাদের উপযুক্ত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দাবি করছি।’

মির্জাপুর থানার এসআই আবু সাইদ জানান, কুমুদিনী হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে সালমানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

মির্জাপুর থানার ওসি শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার্থী সালমানের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া সালমানের পরিবারেরর পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা করতে চাইলে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর করতে পারবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত